Dhaka ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাপাজসের নতুন সভাপতি ড. মহিউদ্দিন, সম্পাদক শিবলী ‘জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার’ ১৫ ঘণ্টা পর সেই দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ ফাইনালে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক পত্নীতলায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি আটক বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরাতে আলোচনা চলছে : বিজিবি সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির ২১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে এক মাসে গ্রেপ্তার ১ হাজার ২৬০ জন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৫

আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার কারণে শহীদ হয়েছিলেন আবরার: সালাহউদ্দিন আহমেদ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 92

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার কারণে আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি অডিটোরিয়ামে আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘মতপ্রকাশ থেকে মৃত্যু: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের বিস্তার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমের সঞ্চালনয় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের ব্যানারে সবচেয়ে সুন্দর স্লোগান হতো — “লেন্দুপ দর্জী থেকে হাসিনা”। আমাদের বাংলাদেশে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী শক্তি হাসিনাকে আরেকটি লেন্দুপ দর্জী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সব নীতিতে সবার আগে এই তিনটি শব্দ থাকতে হবে — স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের স্বার্থ। তাহলেই বাংলাদেশ পথ হারাবে না।

তিনি ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা বাহুর চাইতে মেধাকে গুরুত্ব দিই। আমরা কলম ধরি, আমরা মেধার বিকাশ ঘটাই।
আমরা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের মেধাকে ব্যবহার করি। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বহু রক্ত দিয়েছি, আর রক্ত দিতে চাই না। আমরা মেধার মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। আমরা ভালো আদর্শ দিয়ে খারাপ আদর্শের বিলুপ্তি ঘটাবো। ভালো রাজনীতি দিয়ে খারাপ রাজনীতির বিলুপ্তি ঘটাবো।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, ভারতের সাথে করা সকল দেশবিরোধী চুক্তি, অন্যায্য পানিবণ্টন নিয়ে সোচ্চার ছিলেন আবরার ফাহাদ। এজন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আবরার ফাহাদকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিনই আমরা সবার আগে খবর পেয়েছিলাম এবং আমরা প্রথম প্রতিবাদও করেছিলাম। সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমাদের প্রতিবাদ চলছিল।”

তিনি বলেন, “আবরার হত্যার পাঁচদিন আগেও যারা ছাত্রলীগের পদের আশায় ছিল, তারা আজ সাহসিকতার গল্প শোনায়। যারা ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে থেকে আবরারের হত্যায় সহযোগী ছিল, তারা এখন বড় বড় কথা বলে। আবরার ফাহাদের খুনিদের মামলা লড়েছেন শিশির মনির, যিনি ৫ আগস্টের পর বিখ্যাত হয়ে বনে গেছেন। খুনিদের অনেকের পরিবার জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত।”

তিনি আরো বলেন, যতদিন আবরার ফাহাদের স্মরণসভা হবে, ততদিন আমরা জামায়াত-শিবিরের মুনাফেকি রাজনীতিকে স্মরণ করিয়ে দেবো। যারা ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে — তাদের চিহ্নিত করে দেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার কারণে শহীদ হয়েছিলেন আবরার: সালাহউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশের সময় : ০৮:০৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার কারণে আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি অডিটোরিয়ামে আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘মতপ্রকাশ থেকে মৃত্যু: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্যাসিবাদের বিস্তার ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমের সঞ্চালনয় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান প্রমুখ।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের ব্যানারে সবচেয়ে সুন্দর স্লোগান হতো — “লেন্দুপ দর্জী থেকে হাসিনা”। আমাদের বাংলাদেশে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী শক্তি হাসিনাকে আরেকটি লেন্দুপ দর্জী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সব নীতিতে সবার আগে এই তিনটি শব্দ থাকতে হবে — স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের স্বার্থ। তাহলেই বাংলাদেশ পথ হারাবে না।

তিনি ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা বাহুর চাইতে মেধাকে গুরুত্ব দিই। আমরা কলম ধরি, আমরা মেধার বিকাশ ঘটাই।
আমরা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের মেধাকে ব্যবহার করি। স্বাধীনতার পর থেকে আমরা বহু রক্ত দিয়েছি, আর রক্ত দিতে চাই না। আমরা মেধার মাধ্যমে পরিবর্তন চাই। আমরা ভালো আদর্শ দিয়ে খারাপ আদর্শের বিলুপ্তি ঘটাবো। ভালো রাজনীতি দিয়ে খারাপ রাজনীতির বিলুপ্তি ঘটাবো।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, ভারতের সাথে করা সকল দেশবিরোধী চুক্তি, অন্যায্য পানিবণ্টন নিয়ে সোচ্চার ছিলেন আবরার ফাহাদ। এজন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “আবরার ফাহাদকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিনই আমরা সবার আগে খবর পেয়েছিলাম এবং আমরা প্রথম প্রতিবাদও করেছিলাম। সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমাদের প্রতিবাদ চলছিল।”

তিনি বলেন, “আবরার হত্যার পাঁচদিন আগেও যারা ছাত্রলীগের পদের আশায় ছিল, তারা আজ সাহসিকতার গল্প শোনায়। যারা ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে থেকে আবরারের হত্যায় সহযোগী ছিল, তারা এখন বড় বড় কথা বলে। আবরার ফাহাদের খুনিদের মামলা লড়েছেন শিশির মনির, যিনি ৫ আগস্টের পর বিখ্যাত হয়ে বনে গেছেন। খুনিদের অনেকের পরিবার জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত।”

তিনি আরো বলেন, যতদিন আবরার ফাহাদের স্মরণসভা হবে, ততদিন আমরা জামায়াত-শিবিরের মুনাফেকি রাজনীতিকে স্মরণ করিয়ে দেবো। যারা ছাত্রলীগের লুঙ্গির তলে থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে — তাদের চিহ্নিত করে দেওয়া হবে।