‘জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাতে সহযোগিতা করবে সরকার’
- প্রকাশের সময় : ০৪:৫৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠাতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে, সেখানে দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা অংশ নেবে। যারা চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ও সেরা হিসেবে উঠে আসবে, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তাঁদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। যাতে তরুণরা বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করছি, আগামী বছর থেকে এই প্রস্তাবনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতি নিয়ে বিতর্কে অংশ নেবেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া-এই তিন ক্ষেত্রের এক অপূর্ব ত্রিভুজ সমন্বয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যার অধীনে দেশজুড়ে আয়োজন করা হবে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা। একই সাথে গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, ক্বিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজ প্রতিযোগিতাসহ শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশমূলক সকল আয়োজনে সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই তরুণরাই এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সে সময় তরুণরা একটি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক সমাজের ভিত রচনা করেছে, যেখানে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করব।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন আরও বলেন, সরকার এমন এক বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর, যেখানে যেকোনো নাগরিকের সফল হওয়া কিংবা আত্মবিকাশের সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। সমাজে বজায় থাকবে ন্যায়বিচার ও সমতা, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে স্বচ্ছতা ও কার্যকর জবাবদিহিতা।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের ভাগ্য জড়িয়ে আছে তরুণদের ভাগ্যের সাথে। দেশকে স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী করতে হলে তারুণ্যের এই আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারণ করতে হবে। আমাদের তরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অ্যাকাডেমিক দিক থেকে পূর্ণ ক্ষমতায়ন করতে হবে। নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে তরুণদের প্রত্যাশা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুগোপযোগী দক্ষতা তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য পলিসি মেকিং প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামত সরাসরি সম্পৃক্ত করা জরুরি।
কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আয়োজকদের প্রতি আরও বেশি ‘নীতি সংলাপ’ আয়োজনের আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আর উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।






















