বাজারে ২০০ টাকার টমেটো, কম দামে মিলছে শুধু পেঁপে-মিষ্টিকুমড়া
- প্রকাশের সময় : ০১:২৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতকালীন আগাম সবজির দেখা মিললেও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শিম, টমেটো, বেগুনসহ অধিকাংশ সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া বেশির ভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও টমেটোর দাম উঠেছে ২০০ টাকা কেজিতে। তবে মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। কিছুটা কমেছে ডিমের দাম।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়সও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে আগাম শিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৬০ টাকা। আর টমেটোর দাম প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা।
তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একটি ফুলকপির দাম রাখা হচ্ছে ৭০ টাকা। লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচুমুখি কেজিপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির চড়া দামের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতা রবিউল আলম বলেন, বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসা কিনেছেন ১০০ টাকা কেজি এবং শিম কিনেছেন ১৬০ টাকা কেজি দরে।
মুরগির দাম অপরিবর্তিত, কমেছে ডিমের দাম
সবজির বাজারে অস্বস্তি থাকলেও মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। চারটি ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা।
ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। শুক্রবার তিনি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি করছেন বলে জানান।
এদিকে, গরুর মাংসের দামও আগের মতো রয়েছে। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
মাছের বাজারেও দামের তেমন পরিবর্তন নেই
রাজধানীর মাছের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। বর্তমানে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।
এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষের কই মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হতে পারে।
মাছের আকার, জীবিত বা মৃত অবস্থাসহ বিভিন্ন কারণে দামে পার্থক্য রয়েছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি মাছের দামে ১০ থেকে ২০ টাকা কমবেশি হতে পারে।
মাছ বিক্রেতা আজাদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তবে শুক্রবার ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় মাছের দাম কিছুটা বেশি থাকে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ালেও মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ে স্বস্তি ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।






















