Dhaka ০২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরাতে আলোচনা চলছে : বিজিবি সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির ২১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে এক মাসে গ্রেপ্তার ১ হাজার ২৬০ জন যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৫ বাজারে ২০০ টাকার টমেটো, কম দামে মিলছে শুধু পেঁপে-মিষ্টিকুমড়া বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ২৯ শতাংশ বেকার: আইএমএফ শারদীয় দুর্গাপূজার ষষ্ঠী আজ, দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে আয়োজন দুর্গাপূজায় সীমান্তবর্তী জেলার বাইরে গোপালগঞ্জসহ ৩ জেলায় বিজিবি মোতায়েন নওগাঁয় ৫০ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা তদারকিতে বিজিবি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দু’পক্ষের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে এক মাসে গ্রেপ্তার ১ হাজার ২৬০ জন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে এখনো উত্তাল ফ্রান্স। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই বিক্ষোভে রাজধানী প্যারিসে ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফ্রান্সে কোনো আন্দোলন ঘিরে এত বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তারের নজির নেই বলে জানানো হয়েছে।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, এখনো সারা দেশের প্রায় ২০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ‘শহুরে সহিংসতার আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো আহ্বানেরও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

লেকর্নু জানান, বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামোসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনাগুলোর সমালোচনা করেন তিনি।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সরকারি প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’-এর মাধ্যমে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে সরকার। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গ্রাদিগনান এলাকার একটি উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কাজ চলছে।

জেফ্রে আরও জানান, সরকার তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাদিগনান এলাকায় বিশেষ সমস্যায় থাকা উচ্চবিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৪ থেকে কমে ৪৭টিতে নেমেছে। শরতের ছুটি শেষে বিদ্যালয় খুললে কোনো উচ্চবিদ্যালয়ই যেন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় না থাকে, সেই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ ও ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচইসি প্যারিসেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেখানে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, আগের বিক্ষোভগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে।

প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অবরোধ কর্মসূচি চলছে। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাসের বিক্ষোভে ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনা বারবার ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গত ১৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের শহরতলির একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস চলা এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকার প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এটি দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে রূপ নেয়। বর্তমানে শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে যুক্ত রয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে এক মাসে গ্রেপ্তার ১ হাজার ২৬০ জন

প্রকাশের সময় : ০১:৩৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে এখনো উত্তাল ফ্রান্স। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই বিক্ষোভে রাজধানী প্যারিসে ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফ্রান্সে কোনো আন্দোলন ঘিরে এত বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তারের নজির নেই বলে জানানো হয়েছে।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, এখনো সারা দেশের প্রায় ২০০টি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভ এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ‘শহুরে সহিংসতার আন্দোলনে’ রূপ নিয়েছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার মতো আহ্বানেরও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

লেকর্নু জানান, বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামোসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আঞ্চলিক পরিষদগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের শেষ পর্যায়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনাগুলোর সমালোচনা করেন তিনি।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সরকারি প্ল্যাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’-এর মাধ্যমে পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে সরকার। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গ্রাদিগনান এলাকার একটি উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কাজ চলছে।

জেফ্রে আরও জানান, সরকার তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গ্রাদিগনান এলাকায় বিশেষ সমস্যায় থাকা উচ্চবিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৪ থেকে কমে ৪৭টিতে নেমেছে। শরতের ছুটি শেষে বিদ্যালয় খুললে কোনো উচ্চবিদ্যালয়ই যেন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় না থাকে, সেই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর এক বৈঠকে ‘লে লিসিয়েনস!’ ও ‘ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসিয়েন’-এর মতো শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

প্যারিসের পশ্চিমে জুই-এন-জোসা এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এইচইসি প্যারিসেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন শুরুর পর প্রথমবারের মতো সেখানে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, আগের বিক্ষোভগুলোতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে লিওঁ শহরের প্রশাসন বৃহস্পতিবার সকালে নির্ধারিত একটি ছাত্র বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে।

প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর বেশ কয়েকটি বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অবরোধ কর্মসূচি চলছে। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে মহানগর এলাকায় ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক মাসের বিক্ষোভে ২৮৬ জন পুলিশ ও জেন্ডারমারি সদস্য এবং শিক্ষা বিভাগের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহিংসতার ঘটনা বারবার ঘটছে এবং এর তীব্রতা বাড়ছে। গত ১৩ অক্টোবরের বিক্ষোভে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর ৭১ জন সদস্য আহত হন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের শহরতলির একটি উচ্চবিদ্যালয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস চলা এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকার প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এটি দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে রূপ নেয়। বর্তমানে শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে যুক্ত রয়েছেন।