শিল্পী তাপস কর্মকারের একক রবীন্দ্রসঙ্গীত সন্ধ্যা ও অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন
- প্রকাশের সময় : ০৬:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 424
পিনপতন নীরবতায় দর্শকরা উপভোগ করেছে শিল্পী তাপস কর্মকারের একক রবীন্দ্র সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। আবোল তাবোল শিশু সংগঠনের আয়োজনে গত শুক্রবার রাত ৮টায় রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই সাথে শিল্পী তাপস কর্মকারের ‘আমায় তাই পরালে মালা’ শিরোনামে একক রবীন্দ্রসঙ্গীত অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
একক সঙ্গীত সন্ধ্যায় শিল্পী তাপস কর্মকার পূজা পর্ব, প্রেম পর্ব এবং ষড়ঋতুর মোট ১০টি গান পরিবেশন করেন। এসব গানের মধ্যে ছিল আজি ধানের ক্ষেতে রোদ্র ছায়ায়, গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে, মন মোর মেঘেরও সঙ্গী, আজি শ্রাবণ ঘন গহন মোহে, ওগো শেফালি বনের মনের কামনা ইত্যাদি। শিল্পীকে সঙ্গত দেন মন্দিরায় তরুণ কর্মকার এবং তবলায় পুলক বিশ^াস। গানের মাঝে রবীন্দ্রনাথে গান নিয়ে নানা বিশ্লেষণ করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী মিজানুর রহমান তাসলীম।
এর আগে এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আবোল তাবোল শিশু সংগঠনের সভাপতি অ্যাড. দেবাহুতি চক্রবর্তী।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রকৃত অর্থে ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। প্রকৃতি প্রেমি ও মানব দরদী। তিনি নিজেকে অহংমুক্ত করতে পেরেছিলেন। অহংমুক্ত হতে পারলে প্রকৃত মানুষ রূপে প্রকাশ করা যায়। তিনি প্রকৃতিকে ভালোবেসেছিলেন বলেই সকল ঋতুর গান তিনি লিখে গেছেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলা সঙ্গীতের ধারায় সবচেয়ে শক্তিমান হিসেবে যদি একক কোনো ব্যক্তির কথা বলতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে তিনি আমাদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথের অনন্য সাধারণ সৃষ্টিশীল হাতের ছোঁয়ায় বিশ্বসঙ্গীতের উপাদান সম্বলিত এ গানগুলো বাংলা গানের মূল ধারার গান হিসেবেই বিবেচিত। তার লেখা অধিকাংশ গানে তিনি নিজেই সুর দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের আরেকটি অনবদ্য সৃষ্টি ‘ও ভাই দেখে যা’ গানটি। ১৮৮২ সালে রচিত এ গানটি ‘কাল-মৃগয়া’ নাটকের প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্যে সন্নিবেশিত হয়েছে। তাল-লয়-সুরের ভারে বাংলা গানকে ভেঙে সহজ, সুন্দর ও সাবলীল সব গান রচনা করে রবীন্দ্রনাথ বাংলা গানকে সাধারণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সুরের দুস্তর পারাবারকে এড়িয়ে বাংলা গানকে ‘বাণী প্রধান’ করে আমাদেরকে অভিনব সব গান উপহার দিয়ে গেছেন। সুখে-শোকে, প্রাতে-রাতে, জীবনের সব উপলক্ষ্যে কখনো হালকা মেজাজের, কখনো বা গভীর দার্শনিক জীবনবোধ সম্পন্ন অনবদ্য সব গান রচনা করে চিরভাস্বর হয়ে আছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


























