Dhaka ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ১০০ টাকা, ১০ দিনে আমদানি ২৩৩ টন

মনির হোসেন, বেনাপোল
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 64

ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে কাঁচা মরিচের আমদানি স্বাভাবিক থাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে যশোরের শার্শা-বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম কমেছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

সোমবার শার্শার বেনাপোল, নাভারন ও বাগআঁচড়া বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, ভারত থেকে নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে বাজারে সংকট নেই।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ৩ আগস্ট ৯ দশমিক ২ টন, ৪ আগস্ট ৪২ দশমিক ২২ টন, ৬ আগস্ট ১৪ টন, ৮ আগস্ট ১৫ টন, ৯ আগস্ট ১৪ টন, ১০ আগস্ট ১৪ টন, ১১ আগস্ট ৫৬ টন, ১২ আগস্ট ২৮ টন, ১৩ আগস্ট ২৮ টন এবং ১৬ আগস্ট ১৩ দশমিক ৫ টন মরিচ আমদানি হয়।

বেনাপোল বাজারের কাঁচা মরিচ বিক্রেতা রাশেদ আলী বলেন, ‘ভারত থেকে নিয়মিত মরিচ আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহের ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মরিচ আসছে। ফলে দাম কমে এসেছে।’

ক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও দাম বেশি থাকায় ৫০ গ্রামের বেশি মরিচ কিনতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাওয়া স্বস্তিদায়ক।’

আমদানিকারক শামীম হোসেন বলেন, ‘কাঁচা মরিচ আমদানির প্রভাবে বাজারে তিন ভাগের দুই ভাগ দাম কমেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমে ৫০ টাকায় নেমে আসতে পারে। তখন আমদানি করে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘ভারত থেকে প্রতিদিনই কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে। চলতি মাসের ৩ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। আরও কয়েকটি মরিচবোঝাই ট্রাক পেট্রাপোল বন্দরে বেনাপোলে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব চালান এলে দাম আরও কমতে পারে।’

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পচনশীল কৃষিপণ্যের দামের এমন ওঠানামা ঠেকাতে স্থায়ী সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা জরুরি। স্থানীয় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়েও বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৩০০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ১০০ টাকা, ১০ দিনে আমদানি ২৩৩ টন

প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে কাঁচা মরিচের আমদানি স্বাভাবিক থাকায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে যশোরের শার্শা-বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম কমেছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।

সোমবার শার্শার বেনাপোল, নাভারন ও বাগআঁচড়া বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, ভারত থেকে নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে বাজারে সংকট নেই।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৩ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ৩ আগস্ট ৯ দশমিক ২ টন, ৪ আগস্ট ৪২ দশমিক ২২ টন, ৬ আগস্ট ১৪ টন, ৮ আগস্ট ১৫ টন, ৯ আগস্ট ১৪ টন, ১০ আগস্ট ১৪ টন, ১১ আগস্ট ৫৬ টন, ১২ আগস্ট ২৮ টন, ১৩ আগস্ট ২৮ টন এবং ১৬ আগস্ট ১৩ দশমিক ৫ টন মরিচ আমদানি হয়।

বেনাপোল বাজারের কাঁচা মরিচ বিক্রেতা রাশেদ আলী বলেন, ‘ভারত থেকে নিয়মিত মরিচ আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহের ঘাটতি নেই। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মরিচ আসছে। ফলে দাম কমে এসেছে।’

ক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, ‘কয়েক দিন আগেও দাম বেশি থাকায় ৫০ গ্রামের বেশি মরিচ কিনতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে যাওয়া স্বস্তিদায়ক।’

আমদানিকারক শামীম হোসেন বলেন, ‘কাঁচা মরিচ আমদানির প্রভাবে বাজারে তিন ভাগের দুই ভাগ দাম কমেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমে ৫০ টাকায় নেমে আসতে পারে। তখন আমদানি করে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘ভারত থেকে প্রতিদিনই কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে। চলতি মাসের ৩ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে প্রায় ২৩৩ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। আরও কয়েকটি মরিচবোঝাই ট্রাক পেট্রাপোল বন্দরে বেনাপোলে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব চালান এলে দাম আরও কমতে পারে।’

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পচনশীল কৃষিপণ্যের দামের এমন ওঠানামা ঠেকাতে স্থায়ী সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা জরুরি। স্থানীয় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়েও বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।