Dhaka ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাজবাড়ীর কালুখালীতে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিলস প্রশিক্ষণ শুরু সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ দক্ষিণ চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘নউল’ ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: নিরাপদ আশ্রয়ে আড়াই লক্ষাধিক মানুষ শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে কালীগঞ্জে মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকার পতন স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের আহ্বান ১৮ বছরের কম বয়সীরা যেন মোবাইল ব্যবহার করতে না পারে: ভূমিমন্ত্রী
ইউনিয়ন পরিষদের জমি লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে লাঞ্ছিত সাংবাদিক

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 120

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র তিন হাজার টাকায় জমি লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন শামীম রেজা। এই খবর সংগ্রহে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। গত রোববার বিকেলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার শহিদুল ইসলাম দৈনিক চিত্র পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি। তার বাড়ি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর গ্রামে। অভিযুক্ত শামীম সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়  সূত্র জানায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের জমি রয়েছে। ১৪৩২ বাংলা সনে জমিটি মাত্র তিন হাজার টাকায় লীজ নেন স্থানীয় যুবদল নেতা শামীম রেজা। ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ইস্যু করা রশিদে দেখা যায়, এক বছরের জন্য জমি লীজ দেওয়া উল্লেখ করা হলেও কতটুকু জমি তা উল্লেখ করা হয়নি। লীজ নেওয়ার পর সেখানে প্রায় ২০ ফুট লম্বা পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন শামীম। গত রোববার দুপুর তিনটার দিকে সেখানে সংবাদ সংগ্রহে যান সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এসময় তার মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করে ফেলা হয়।

শহিদুল ইসলাম জানান, সোনাপুর বাজারে যাওয়ার পর কয়েকটি ছবি তোলেন। কারা এই পাকা ঘর নির্মাণ করছেন এটা জানার চেষ্টা করেন। হঠাৎ শামীমসহ দুই তিনজন এসে তাকে ঘিরে ধরে। এরপর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভুয়া সাংবাদিক ইত্যাদি বলে লাঞ্ছিত করে। ওই যুবকরা নিজেদের যুবদল নেতা বলে দাবি করে। তারা ছবি ডিলিট করতে চাপ দেয়। এরপর তাকে বলে, তুই কানে কানে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিস। যা ডাহা মিথ্যা কথা। তাকে আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ডিলিট করে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা আলমগীর বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যেসব জমি লীজ দেওয়া হয়, সম্পদ আহরণ যে রেজিস্টার আছে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের জমি বাৎসরিক লীজ দেওয়া হয় পয়লা বৈশাখে। আবেদনের প্রেক্ষিতে হালট, জলা, আবাদি জমি যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত সেগুলো লীজ দেওয়া হয়। সোনাপুরে এই জমিটা যে আছে তা তার জানাই ছিলনা। হঠাৎ করে দেখি, একটি আবেদন পড়েছে পয়লা বৈশাখের আগে। এর উপর ভিত্তি করে তাকে  লীজ দিয়েছি। বাৎসরিক হিসেবে তার কাছ থেকে রশিদ কেটে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। জমি কতটুকু আছে তাও জানিনা। তিনি বলেন, সেখানে ইতিমধ্যে দুটি জায়গা দখল করে ফেলেছে। তবুও এখান থেকে তিন হাজার টাকা তো রাজস্ব আদায় হলো। পাকা স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি জানার পর তিনি ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলেছেন। আমার সাধ্যমত পদক্ষেপ নেব।

জমি লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা কীভাবে নির্মাণ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম রেজা জানান, আমরা ভুল করেছিলাম। কাজ স্থগিত আছে। ওখানে পাঁচ শতাংশ জায়গা নেওয়া আছে। ঘর করছি আধা শতাংশ অথবা এক শতাংশের কম জায়গার উপর। সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার বিষয়ে বলেন, একজন সেখানে ছবি তুলছিল। তাকে আমরা চিনিনা। ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং টাকা দাবি করেন। এটা নিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তাকে লাঞ্ছিত করা হয়নি। শহিদুলের মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। যুবদলের কোন পদে আছেন জানতে চাইলে বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। আমি একজন ব্যবসায়ী।

বালিয়য়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি যতটুকুু জেনেছি, ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন জায়গা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যেটা জানালেন, জমিটি লীজ দিয়েছে। লীজের শর্তাবলীগুলোও দেখতে হবে। সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ আছে কীনা। সেটা দেখে বলতে হবে। তবে আমি যতটুকু জানি, পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। হাটবাজার যেভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়, সেমি পাকা হতে পারে। চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানতে চাইব। সাংবাদিক লাঞ্ছিতের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক কোনো অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ইউনিয়ন পরিষদের জমি লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ

সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে লাঞ্ছিত সাংবাদিক

প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাত্র তিন হাজার টাকায় জমি লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন শামীম রেজা। এই খবর সংগ্রহে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। গত রোববার বিকেলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার শহিদুল ইসলাম দৈনিক চিত্র পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি। তার বাড়ি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মদাপুর গ্রামে। অভিযুক্ত শামীম সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয়  সূত্র জানায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের জমি রয়েছে। ১৪৩২ বাংলা সনে জমিটি মাত্র তিন হাজার টাকায় লীজ নেন স্থানীয় যুবদল নেতা শামীম রেজা। ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ইস্যু করা রশিদে দেখা যায়, এক বছরের জন্য জমি লীজ দেওয়া উল্লেখ করা হলেও কতটুকু জমি তা উল্লেখ করা হয়নি। লীজ নেওয়ার পর সেখানে প্রায় ২০ ফুট লম্বা পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন শামীম। গত রোববার দুপুর তিনটার দিকে সেখানে সংবাদ সংগ্রহে যান সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এসময় তার মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করে ফেলা হয়।

শহিদুল ইসলাম জানান, সোনাপুর বাজারে যাওয়ার পর কয়েকটি ছবি তোলেন। কারা এই পাকা ঘর নির্মাণ করছেন এটা জানার চেষ্টা করেন। হঠাৎ শামীমসহ দুই তিনজন এসে তাকে ঘিরে ধরে। এরপর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভুয়া সাংবাদিক ইত্যাদি বলে লাঞ্ছিত করে। ওই যুবকরা নিজেদের যুবদল নেতা বলে দাবি করে। তারা ছবি ডিলিট করতে চাপ দেয়। এরপর তাকে বলে, তুই কানে কানে ২০ হাজার টাকা চেয়েছিস। যা ডাহা মিথ্যা কথা। তাকে আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ডিলিট করে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা আলমগীর বলেন, আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যেসব জমি লীজ দেওয়া হয়, সম্পদ আহরণ যে রেজিস্টার আছে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের জমি বাৎসরিক লীজ দেওয়া হয় পয়লা বৈশাখে। আবেদনের প্রেক্ষিতে হালট, জলা, আবাদি জমি যেসব ইউনিয়ন পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত সেগুলো লীজ দেওয়া হয়। সোনাপুরে এই জমিটা যে আছে তা তার জানাই ছিলনা। হঠাৎ করে দেখি, একটি আবেদন পড়েছে পয়লা বৈশাখের আগে। এর উপর ভিত্তি করে তাকে  লীজ দিয়েছি। বাৎসরিক হিসেবে তার কাছ থেকে রশিদ কেটে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। জমি কতটুকু আছে তাও জানিনা। তিনি বলেন, সেখানে ইতিমধ্যে দুটি জায়গা দখল করে ফেলেছে। তবুও এখান থেকে তিন হাজার টাকা তো রাজস্ব আদায় হলো। পাকা স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি জানার পর তিনি ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলেছেন। আমার সাধ্যমত পদক্ষেপ নেব।

জমি লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা কীভাবে নির্মাণ করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম রেজা জানান, আমরা ভুল করেছিলাম। কাজ স্থগিত আছে। ওখানে পাঁচ শতাংশ জায়গা নেওয়া আছে। ঘর করছি আধা শতাংশ অথবা এক শতাংশের কম জায়গার উপর। সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার বিষয়ে বলেন, একজন সেখানে ছবি তুলছিল। তাকে আমরা চিনিনা। ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং টাকা দাবি করেন। এটা নিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তাকে লাঞ্ছিত করা হয়নি। শহিদুলের মোবাইল থেকে ছবি ডিলিট করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। যুবদলের কোন পদে আছেন জানতে চাইলে বলেন, এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। আমি একজন ব্যবসায়ী।

বালিয়য়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি যতটুকুু জেনেছি, ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন জায়গা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যেটা জানালেন, জমিটি লীজ দিয়েছে। লীজের শর্তাবলীগুলোও দেখতে হবে। সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ আছে কীনা। সেটা দেখে বলতে হবে। তবে আমি যতটুকু জানি, পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। হাটবাজার যেভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়, সেমি পাকা হতে পারে। চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানতে চাইব। সাংবাদিক লাঞ্ছিতের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক কোনো অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।