Dhaka ০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রতারণা করে যেভাবে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতো সাদ্দাম

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • / ১৫৫০ জন সংবাদটি পড়েছেন


জনতার আদালত অনলাইন ॥ বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের সদস্য সাদ্দামকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়ার জঙ্গল বাজার থেকে আটক করেছে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয় তার বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালীর ডুমাইনে। বাবার নাম মৃত সাহেদ মিয়া।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম জানিয়েছে কীভাবে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতো। তারা কয়েকজন মিলে এই প্রতারণা করতো। প্রথমে তারা বিকাশের দোকান থেকে ক্যাশ আউটের নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে ফোন দিয়ে দিনে চার-পাঁচজন গ্রাহককে বলতেন, ‘আপনার নম্বরে ভুলে টাকা গেছে। ফেরত না দিলে অভিযোগ দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হবে। অ্যাকাউন্ট চালু করতে বিকাশ হেড অফিস থেকে আপনাকে ফোন দিয়ে একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন পুনরায় আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে তাদের দেয়া পিন বলবেন। তাহলে অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে যাবে।’ তখন বিকাশ গ্রাহকসহ তারা উভয়েই ওই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারেন। সেই সুযোগে তারা গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেন।
তিনি আরও জানান, দুই বছর ধরে এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মী, প্রতি মাসে এভাবে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করেন। যাদের নির্দেশে কাজ করেন তাদের মাসে আয় লাখ লাখ টাকা। এ কাজে তাদের এলাকার প্রায় ৯০ ভাগ যুবক জড়িত।
অভিযোগকারী আমিরুল ইসলাম জানান, গত ৩১ আগস্ট ইসমাইল নামে তার এক বন্ধু বিকাশে ৩ হাজার ৬০ টাকা পাঠায়। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলে ভুলে ৩ হাজার টাকা গেছে। তখন তিনি নিজের অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেন কোনো টাকা আসেনি। এরপর ওই প্রতারক বলে আপনার অ্যাকাউন্ট বিকাশ হেড অফিস থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। পুনরায় চালু করতে অফিস একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন আপনি ১১২২৩ নম্বরটি দেবেন, ওরা আপনার অ্যাকাউন্ট চালু করে দেবে। কিন্তু তখন আপনাকে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকাতে হবে। সে সময় তার অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৭০০ টাকা ছিল। ওই টাকা উদ্ধারের কথা ভেবে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা ঢুকান। পরে ওই টাকা তিনি আর তুলতে পারেননি। প্রতারক চক্র তুলে নিয়েছে। এরপর টাকা উদ্ধার ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি রাজবাড়ী সদর থানায় অভিযোগ করেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বিকাশ প্রতারক চক্র সদর উপজেলার বরাটের এলাকার আমিরুল ইসলামের ৭৭ হাজার ৪৪৩ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে- এমন মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার বিকাশ হেল্প সেন্টারে যোগাযোগ করে জানতে পারেন ওই টাকা চট্টগ্রাম ও ঝিনাইদহের দুটি নম্বরে ক্যাশআউট করা হয়েছে। পরে এসব স্থানে খোঁজ নিয়ে তার নেতৃত্বে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নারুয়ার জঙ্গল বাজারে অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হুসাইন নামে বিকাশ প্রতারক চক্রের একজনকে ১০ হাজার ২০০ টাকাসহ আটক করে। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

প্রতারণা করে যেভাবে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতো সাদ্দাম

প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯


জনতার আদালত অনলাইন ॥ বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া চক্রের সদস্য সাদ্দামকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়ার জঙ্গল বাজার থেকে আটক করেছে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয় তার বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালীর ডুমাইনে। বাবার নাম মৃত সাহেদ মিয়া।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম জানিয়েছে কীভাবে বিকাশের টাকা হাতিয়ে নিতো। তারা কয়েকজন মিলে এই প্রতারণা করতো। প্রথমে তারা বিকাশের দোকান থেকে ক্যাশ আউটের নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে ফোন দিয়ে দিনে চার-পাঁচজন গ্রাহককে বলতেন, ‘আপনার নম্বরে ভুলে টাকা গেছে। ফেরত না দিলে অভিযোগ দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হবে। অ্যাকাউন্ট চালু করতে বিকাশ হেড অফিস থেকে আপনাকে ফোন দিয়ে একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন পুনরায় আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে তাদের দেয়া পিন বলবেন। তাহলে অ্যাকাউন্ট সচল হয়ে যাবে।’ তখন বিকাশ গ্রাহকসহ তারা উভয়েই ওই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারেন। সেই সুযোগে তারা গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেন।
তিনি আরও জানান, দুই বছর ধরে এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মী, প্রতি মাসে এভাবে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করেন। যাদের নির্দেশে কাজ করেন তাদের মাসে আয় লাখ লাখ টাকা। এ কাজে তাদের এলাকার প্রায় ৯০ ভাগ যুবক জড়িত।
অভিযোগকারী আমিরুল ইসলাম জানান, গত ৩১ আগস্ট ইসমাইল নামে তার এক বন্ধু বিকাশে ৩ হাজার ৬০ টাকা পাঠায়। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে বলে ভুলে ৩ হাজার টাকা গেছে। তখন তিনি নিজের অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখেন কোনো টাকা আসেনি। এরপর ওই প্রতারক বলে আপনার অ্যাকাউন্ট বিকাশ হেড অফিস থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। পুনরায় চালু করতে অফিস একটি পিন নম্বর চাইবে। তখন আপনি ১১২২৩ নম্বরটি দেবেন, ওরা আপনার অ্যাকাউন্ট চালু করে দেবে। কিন্তু তখন আপনাকে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকাতে হবে। সে সময় তার অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৭০০ টাকা ছিল। ওই টাকা উদ্ধারের কথা ভেবে ২৪ হাজার ৯০০ টাকা ঢুকান। পরে ওই টাকা তিনি আর তুলতে পারেননি। প্রতারক চক্র তুলে নিয়েছে। এরপর টাকা উদ্ধার ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি রাজবাড়ী সদর থানায় অভিযোগ করেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, বিকাশ প্রতারক চক্র সদর উপজেলার বরাটের এলাকার আমিরুল ইসলামের ৭৭ হাজার ৪৪৩ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে- এমন মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকার বিকাশ হেল্প সেন্টারে যোগাযোগ করে জানতে পারেন ওই টাকা চট্টগ্রাম ও ঝিনাইদহের দুটি নম্বরে ক্যাশআউট করা হয়েছে। পরে এসব স্থানে খোঁজ নিয়ে তার নেতৃত্বে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির নারুয়ার জঙ্গল বাজারে অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হুসাইন নামে বিকাশ প্রতারক চক্রের একজনকে ১০ হাজার ২০০ টাকাসহ আটক করে। তার বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।