Dhaka ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহক পেলেন ২৫০ কোটি টাকা আপিল বিভাগে বাগবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৬ মাস কর ছাড় কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ রাজবাড়ীতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা ‘বেঁচে থাকতে কেউ সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পরই বিএনপি নেতার মৃত্যু শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন ১৬ ডিসেম্বর সাক্ষরতার হার বাড়লেও দেশের পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর ১০ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি ঢাকাতেও কিছুটা লোডশেডিং মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহক পেলেন ২৫০ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:১১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 8

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক ২৫০ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন। তবে এদিন বড় ধরনের কোনো জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের চাহিদা জমা পড়ে।

এর মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিন ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়।

প্রথম দিন যারা টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন, তাদের সোমবার ব্যাংকে এসে টাকা নেওয়ার জন্য বলা হয়। তবে তাদের একটি অংশ ব্যাংকে এসে টাকা নেননি। অনেকে জানিয়েছেন, আপাতত আমানত ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, মেয়াদি আমানতের টাকা এখন তুলে নিলে মুনাফা পাওয়া যাবে না। ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমানত নিরাপদ থাকার আশ্বাস পাওয়ার পর অনেকে আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করা সব গ্রাহকের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে সবাই টাকা নিতে আসেননি। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমানত চালু রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পরই তা পুনরায় ব্যাংকে জমা করেছেন।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার গ্রাহক মশিউর রহমান জানান, তিনি টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে জানান, এখন টাকা তুললে মুনাফা পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি আমানত নিরাপদ থাকার বিষয়েও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। তাই তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে মেয়াদি আমানত পূর্ণ হওয়ার পর মুনাফাসহ টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখার গ্রাহক মোহাম্মদ শাহাদাত জানান, বাবার চিকিৎসার জন্য তার টাকার প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন টাকা তুলতে না পেরে তিনি ভোগান্তিতে ছিলেন। প্রথম দিন আবেদন করার পর সোমবার টাকা ফেরত পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় কিছু গ্রাহক টাকা তুললেও অনেকে মুনাফার বিষয় নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

টাকা ফেরতের পাশাপাশি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর এতে ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহক পেলেন ২৫০ কোটি টাকা

প্রকাশের সময় : ০২:১১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক ২৫০ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন। তবে এদিন বড় ধরনের কোনো জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের চাহিদা জমা পড়ে।

এর মধ্যে ১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিন ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়।

প্রথম দিন যারা টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন, তাদের সোমবার ব্যাংকে এসে টাকা নেওয়ার জন্য বলা হয়। তবে তাদের একটি অংশ ব্যাংকে এসে টাকা নেননি। অনেকে জানিয়েছেন, আপাতত আমানত ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, মেয়াদি আমানতের টাকা এখন তুলে নিলে মুনাফা পাওয়া যাবে না। ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমানত নিরাপদ থাকার আশ্বাস পাওয়ার পর অনেকে আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করা সব গ্রাহকের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে সবাই টাকা নিতে আসেননি। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমানত চালু রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পরই তা পুনরায় ব্যাংকে জমা করেছেন।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার গ্রাহক মশিউর রহমান জানান, তিনি টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে জানান, এখন টাকা তুললে মুনাফা পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি আমানত নিরাপদ থাকার বিষয়েও তাকে আশ্বস্ত করা হয়। তাই তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে মেয়াদি আমানত পূর্ণ হওয়ার পর মুনাফাসহ টাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখার গ্রাহক মোহাম্মদ শাহাদাত জানান, বাবার চিকিৎসার জন্য তার টাকার প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন টাকা তুলতে না পেরে তিনি ভোগান্তিতে ছিলেন। প্রথম দিন আবেদন করার পর সোমবার টাকা ফেরত পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় কিছু গ্রাহক টাকা তুললেও অনেকে মুনাফার বিষয় নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

টাকা ফেরতের পাশাপাশি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর এতে ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।