Dhaka ০৬:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মালিক দেশের ১৮ কোটি জনগণ: ভূমি প্রতিমন্ত্রী স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার মুখ খুললেন প্রবাসী প্রেমিককে বান্ধবীদের ‘গোপন ছবি’ পাঠানো সেই ইবি ছাত্রী জুলাই কনসার্টে শিল্পী হাসানকে বোতল নিক্ষেপ, সমালোচনার ঝড় নওগাঁ সদর সার্কেল ও ট্রাফিক অফিস পরিদর্শন করলেন অ্যাডিশনাল ডিআইজি সৌদিতে হুথিদের হামলা, বিদেশিসহ আহত ১১ সোনার দাম ভরিতে কমল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা রাজবাড়ীতে নাট্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও অভিনেতা প্রস্তুতি কর্মসূচির উদ্বোধন সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৯

মুখ খুললেন প্রবাসী প্রেমিককে বান্ধবীদের ‘গোপন ছবি’ পাঠানো সেই ইবি ছাত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ‘গোপন ছবি’ তুলে লন্ডনপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর ঘটনায় তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে প্রক্টরিয়াল বডি। পাশাপাশি দ্রুত তদন্তপূর্বক শাস্তি নির্ধারণে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার সরাসরি দায় স্বীকার করে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তোবাউল জান্নাতী ঐশী।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাকে অভিযোগ করার অধিকার তাদের (ভুক্তভোগীদের) অবশ্যই আছে। কারণ, তাদের রুমে বসা বা চলাফেরা করার কিছু ছবি আমি অন্য একজনকে দিয়েছি। তবে এটি আমি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ, তাদের মানহানি, ক্ষতিসাধন কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বিক্রি করার মতো কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কখনোই করিনি।

যার কাছে ছবি পাঠানো হয়েছে, সেই প্রেমিকের সঙ্গে বান্ধবীদের আগে থেকেই পরিচয় ছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, তাদের (ভুক্তভোগীদের) আমি আমার সহপাঠী ও বান্ধবী মনে করেছি এবং তাদের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। যে ছেলেটার সঙ্গে আমার কথা হতো, তার সঙ্গে ওই বান্ধবীদেরও কথা হতো। ফেসবুকে তারা যুক্ত ছিল এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বরং বান্ধবীরাই আমাকে বলত, ছেলেটা ভালো, ওর সঙ্গে সম্পর্ক কর। তুই জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছিস, অনেকবার ঠকেছিস, তাই এই ছেলেটাকে বিশ্বাস করে বিয়ে করে ফেল।

‘ছেলেটির সঙ্গে যখন আমার নিয়মিত কথা হতো, তখন সে আমার রুমমেট এবং আশপাশের মানুষদের চিনত। কথা বলার সময় অনেক ক্ষেত্রে আমরা যেমন ছবি দিয়ে বলি, “একে তুমি চেনো কি না, সে আমার বান্ধবী”—বিষয়টা ঠিক সেভাবেই ঘটেছে। কথা বলার সময় আমি কোথায় আছি বা কী করছি, তা বোঝাতে গিয়ে সামনে যে-ই ছিল, তার ছবি তুলে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এটা যে বেআইনি বা অনুচিত কাজ হয়েছে, তা আমি তখন বুঝতে পারিনি। কিন্তু এখন বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে এই বলে যে, আমি তাদের ব্যক্তিগত ছবি পাচার করেছি।’

অভিযুক্ত ছাত্রী দায় স্বীকার করে বলেন, অবশ্যই তারা নিজেদের মতো রুমে বসে ছিল। সেই ছবি আমার দেওয়া ঠিক হয়নি। আমি স্বীকার করছি, আমার ভুল হয়েছে এবং এর জন্য আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। প্রয়োজনে আমাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হলেও আমি মেনে নেব। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কারও ক্ষতি করা বা কারও সম্মানে আঘাত করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। আমি একজন শিক্ষার্থী। আমার ভুলটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হোক। আমি আমার বান্ধবীদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। প্রশাসন, শিক্ষক ও হল প্রভোস্টের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—আমার অপরাধের বিচার হোক, কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষাজীবন বা ক্যারিয়ার যেন ধ্বংস করে দেওয়া না হয়।

ছেলেটি আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি এই মুহূর্তে তাকে বিয়ে করতে রাজি হইনি। সে দাবি করেছে, আমার পেছনে সে টাকা খরচ করেছে। অথচ আমি কোনো দিন তার কাছে একটি টাকাও চাইনি। আমার কোনো কিছুর অভাব নেই। আমার বাবা-মা দুজনেই শিক্ষক এবং চাকরিজীবী।

টাকা পাঠাতেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে আমাকে খুশি করার জন্য হয়তো কিছু উপহার দিয়েছিল। কিন্তু পরে সে বান্ধবীদের কাছে দাবি করেছে যে, সে আমার পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ছেলেটি যখন দেশে আসার কথা জানাল, আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে, দেশে এলে দেখা হবে। সে দেশে আসার পর কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ারে আমাদের দেখাও হয়। তখন আমার রুমের বান্ধবীরা খুব উচ্ছ্বসিত ছিল এবং সেখানে আমার আরেকজন ছেলে বন্ধুও উপস্থিত ছিল। বান্ধবীরা তখন আমাকে চাপ দেয় ওকে বিয়ে করার জন্য। কিন্তু আমি বারবার বলেছি, এই মুহূর্তে আমি বিয়ে করব না। তবে সবার সামনে কথা হয়েছিল যে, আমি বাসায় গিয়ে তার বিষয়ে কথা বলব, কারণ ছেলেটিকে আমার ভালোই লেগেছিল।

অভিযুক্তের দাবি, ছেলেটার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও রেশারেশি থেকে আমার বান্ধবীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। সে আমাকে হুমকিও দিয়েছে এবং তার সেই ক্ষোভের শিকার হয়েই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষিপ্ত হয়েই সে আমার বান্ধবীদের কাছে ছবিগুলো পাঠিয়েছে। প্রশাসন থেকে নানা সন্দেহ করা হচ্ছে। আমি জানাতে চাই, আমার অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। প্রয়োজনে আমার ফোন চেক করে দেখা যেতে পারে। আমি কেবল তাকে বলেছিলাম যে, এই মুহূর্তে আমি বিয়ে করতে চাই না। আমি সত্যের পথেই আছি এবং বারবার বলছি, আমি অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির শিকার।

এদিকে প্রবাসী প্রেমিকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিবেদকের যোগাযোগ হয়। বিকাশে টাকা পাঠানোর কিছু ডকুমেন্টও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রবাসী প্রেমিকের দাবি, সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিয়ে করবে বলে যা চেয়েছে, তাই দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও একবার গিয়েছি। ছবি আমি পাঠাতে বলিনি, সে নিজ উদ্যোগে অনেক মেয়ের ছবি পাঠাত। এমনকি তার খালাতো বোনের ছবিও।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঐশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠানো হয়। এরপর হলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে জরুরি সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মুখ খুললেন প্রবাসী প্রেমিককে বান্ধবীদের ‘গোপন ছবি’ পাঠানো সেই ইবি ছাত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ‘গোপন ছবি’ তুলে লন্ডনপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর ঘটনায় তোলপাড় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে প্রক্টরিয়াল বডি। পাশাপাশি দ্রুত তদন্তপূর্বক শাস্তি নির্ধারণে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার সরাসরি দায় স্বীকার করে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তোবাউল জান্নাতী ঐশী।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরটিভিকে বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাকে অভিযোগ করার অধিকার তাদের (ভুক্তভোগীদের) অবশ্যই আছে। কারণ, তাদের রুমে বসা বা চলাফেরা করার কিছু ছবি আমি অন্য একজনকে দিয়েছি। তবে এটি আমি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ, তাদের মানহানি, ক্ষতিসাধন কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বিক্রি করার মতো কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কখনোই করিনি।

যার কাছে ছবি পাঠানো হয়েছে, সেই প্রেমিকের সঙ্গে বান্ধবীদের আগে থেকেই পরিচয় ছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, তাদের (ভুক্তভোগীদের) আমি আমার সহপাঠী ও বান্ধবী মনে করেছি এবং তাদের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। যে ছেলেটার সঙ্গে আমার কথা হতো, তার সঙ্গে ওই বান্ধবীদেরও কথা হতো। ফেসবুকে তারা যুক্ত ছিল এবং তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বরং বান্ধবীরাই আমাকে বলত, ছেলেটা ভালো, ওর সঙ্গে সম্পর্ক কর। তুই জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছিস, অনেকবার ঠকেছিস, তাই এই ছেলেটাকে বিশ্বাস করে বিয়ে করে ফেল।

‘ছেলেটির সঙ্গে যখন আমার নিয়মিত কথা হতো, তখন সে আমার রুমমেট এবং আশপাশের মানুষদের চিনত। কথা বলার সময় অনেক ক্ষেত্রে আমরা যেমন ছবি দিয়ে বলি, “একে তুমি চেনো কি না, সে আমার বান্ধবী”—বিষয়টা ঠিক সেভাবেই ঘটেছে। কথা বলার সময় আমি কোথায় আছি বা কী করছি, তা বোঝাতে গিয়ে সামনে যে-ই ছিল, তার ছবি তুলে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এটা যে বেআইনি বা অনুচিত কাজ হয়েছে, তা আমি তখন বুঝতে পারিনি। কিন্তু এখন বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে এই বলে যে, আমি তাদের ব্যক্তিগত ছবি পাচার করেছি।’

অভিযুক্ত ছাত্রী দায় স্বীকার করে বলেন, অবশ্যই তারা নিজেদের মতো রুমে বসে ছিল। সেই ছবি আমার দেওয়া ঠিক হয়নি। আমি স্বীকার করছি, আমার ভুল হয়েছে এবং এর জন্য আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। প্রয়োজনে আমাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হলেও আমি মেনে নেব। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কারও ক্ষতি করা বা কারও সম্মানে আঘাত করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। আমি একজন শিক্ষার্থী। আমার ভুলটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হোক। আমি আমার বান্ধবীদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। প্রশাসন, শিক্ষক ও হল প্রভোস্টের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—আমার অপরাধের বিচার হোক, কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষাজীবন বা ক্যারিয়ার যেন ধ্বংস করে দেওয়া না হয়।

ছেলেটি আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি এই মুহূর্তে তাকে বিয়ে করতে রাজি হইনি। সে দাবি করেছে, আমার পেছনে সে টাকা খরচ করেছে। অথচ আমি কোনো দিন তার কাছে একটি টাকাও চাইনি। আমার কোনো কিছুর অভাব নেই। আমার বাবা-মা দুজনেই শিক্ষক এবং চাকরিজীবী।

টাকা পাঠাতেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে আমাকে খুশি করার জন্য হয়তো কিছু উপহার দিয়েছিল। কিন্তু পরে সে বান্ধবীদের কাছে দাবি করেছে যে, সে আমার পেছনে অনেক টাকা খরচ করেছে।

তিনি আরও বলেন, ছেলেটি যখন দেশে আসার কথা জানাল, আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে, দেশে এলে দেখা হবে। সে দেশে আসার পর কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ারে আমাদের দেখাও হয়। তখন আমার রুমের বান্ধবীরা খুব উচ্ছ্বসিত ছিল এবং সেখানে আমার আরেকজন ছেলে বন্ধুও উপস্থিত ছিল। বান্ধবীরা তখন আমাকে চাপ দেয় ওকে বিয়ে করার জন্য। কিন্তু আমি বারবার বলেছি, এই মুহূর্তে আমি বিয়ে করব না। তবে সবার সামনে কথা হয়েছিল যে, আমি বাসায় গিয়ে তার বিষয়ে কথা বলব, কারণ ছেলেটিকে আমার ভালোই লেগেছিল।

অভিযুক্তের দাবি, ছেলেটার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও রেশারেশি থেকে আমার বান্ধবীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। সে আমাকে হুমকিও দিয়েছে এবং তার সেই ক্ষোভের শিকার হয়েই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষিপ্ত হয়েই সে আমার বান্ধবীদের কাছে ছবিগুলো পাঠিয়েছে। প্রশাসন থেকে নানা সন্দেহ করা হচ্ছে। আমি জানাতে চাই, আমার অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। প্রয়োজনে আমার ফোন চেক করে দেখা যেতে পারে। আমি কেবল তাকে বলেছিলাম যে, এই মুহূর্তে আমি বিয়ে করতে চাই না। আমি সত্যের পথেই আছি এবং বারবার বলছি, আমি অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতির শিকার।

এদিকে প্রবাসী প্রেমিকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিবেদকের যোগাযোগ হয়। বিকাশে টাকা পাঠানোর কিছু ডকুমেন্টও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রবাসী প্রেমিকের দাবি, সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিয়ে করবে বলে যা চেয়েছে, তাই দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও একবার গিয়েছি। ছবি আমি পাঠাতে বলিনি, সে নিজ উদ্যোগে অনেক মেয়ের ছবি পাঠাত। এমনকি তার খালাতো বোনের ছবিও।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঐশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া আবিদ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠানো হয়। এরপর হলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে জরুরি সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে।