ঝিকেরগাছায় গণ-অভ্যুত্থানে নিহত জাবিরকে স্মরণে এখনো শোকে কাতর পরিবার
- প্রকাশের সময় : ০৯:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 18
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহম্মেদ জাবিরকে হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার বাবা-মা। যশোরের ঝিকেরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রামের কৃষক নওশের আলী ও শিরিনা আক্তার দম্পতি এখনো ছেলের জামাকাপড়, বই-খাতা ও কাগজপত্র হাতে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেই সময় কাটান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার ছিল। কৃষক পরিবারের সন্তান জাবির ঢাকার সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ বিভাগে পড়াশোনা করতেন। পরিবার ও সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
গত ১৮ জুলাই রাজধানীর রামপুরা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে আহত হন জাবির। কিন্তু পরদিন ১৯ জুলাই আবারও আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হলে সহযোদ্ধারা তাকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুলাই তিনি মারা যান।
পরিবারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, শেষবারের মতো জাবিরের মরদেহ বাড়ির ভেতরে নিতে পারেননি তারা। পরিবারের দাবি, মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে রাতেই দাফন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে স্বজনরা শেষবারের মতো তাকে ছুঁয়ে দেখারও সুযোগ পাননি।
জাবিরের বাবা নওশের আলী বলেন, ‘২৭ জুলাই সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ নেওয়ার সময় সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা আমাদের কটূক্তি করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, “যাও, ছেলেকে ভালো করে আন্দোলন করতে বলো। এখন কবরে শুয়ে শুয়ে আন্দোলন করুক।”’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা থেকে যশোরে আসার পুরো পথেই দ্রুত দাফনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বলা হয়েছিল, কোনো আনুষ্ঠানিকতা করা যাবে না, মরদেহ সরাসরি কবরস্থানে নিতে হবে। অন্যথায় পরিবারের সবাই বিপদে পড়বে।’
ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের দুই বছর হয়ে গেল, কিন্তু এখনো ছেলে হত্যার বিচার পাইনি। যারা আন্দোলন দমনের নামে মানুষ হত্যা করেছে, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি। আমি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ ৯৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছি। জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু চাই, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার দেখতে।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবিরের পরিবার শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পেয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লাখ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লাখ, বিএনপির পক্ষ থেকে ১ লাখ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, নওশের আলী স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্নে তিনি জমি বিক্রি করে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এমনকি বাড়ির মুরগির খামারও বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাবির পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।’


















