Dhaka ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

কালুখালীর বড়ইচারা গ্রামের ৩ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই

আশিক হাসান, কালুখালী
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 109

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের বড়ইচারা গ্রামের হাজারো মানুষ একটি কাঁচা রাস্তার বেহাল দশার কারণে বছরজুড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় আচ্ছন্ন থাকে, আর বর্ষায় পরিণত হয় কাদাপানির পথে।

শিকজান বাজার সড়ক থেকে বড়ইচারা গ্রামের আফজাল মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পুরো রাস্তা জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। ফলে বর্ষাকালে পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত ধুলার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। বর্ষায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগীকে উপজেলা বা জেলা সদরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি অনেক সময় কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাদের।

এলাকার মানুষ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে বড়ইচারা গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তারা জানান, রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় পথচারীদের পাশাপাশি কৃষকরাও সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। ফসল নিয়ে হাট-বাজারে যেতে ভ্যান, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকরাও অনীহা দেখান। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন।

বড়ইচারা গ্রামের কৃষক মিজান মন্ডল বলেন, ‘এই কাঁচা রাস্তার কারণে আমাদের ফসল নিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ক্ষেতের ফসল হাট-বাজারে নিতে পারি না। ভ্যান-নছিমন আসতে চায় না। আসলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। মাঝে মাঝে মালামালসহ ভ্যান উল্টে ফসলের ক্ষতি হয়। তাই এই কাঁচা রাস্তাটি দ্রুত পাকা করা হলে আমরা বাঁচতাম।’

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে বড়ইচারা গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচল সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা রাস্তাটি দ্রুত পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালুখালীর বড়ইচারা গ্রামের ৩ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই

প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের বড়ইচারা গ্রামের হাজারো মানুষ একটি কাঁচা রাস্তার বেহাল দশার কারণে বছরজুড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় আচ্ছন্ন থাকে, আর বর্ষায় পরিণত হয় কাদাপানির পথে।

শিকজান বাজার সড়ক থেকে বড়ইচারা গ্রামের আফজাল মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পুরো রাস্তা জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যায়। ফলে বর্ষাকালে পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত ধুলার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। বর্ষায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগীকে উপজেলা বা জেলা সদরে নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি অনেক সময় কৃষিপণ্য নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাদের।

এলাকার মানুষ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে বড়ইচারা গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। তারা জানান, রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় পথচারীদের পাশাপাশি কৃষকরাও সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। ফসল নিয়ে হাট-বাজারে যেতে ভ্যান, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকরাও অনীহা দেখান। কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন।

বড়ইচারা গ্রামের কৃষক মিজান মন্ডল বলেন, ‘এই কাঁচা রাস্তার কারণে আমাদের ফসল নিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ক্ষেতের ফসল হাট-বাজারে নিতে পারি না। ভ্যান-নছিমন আসতে চায় না। আসলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। মাঝে মাঝে মালামালসহ ভ্যান উল্টে ফসলের ক্ষতি হয়। তাই এই কাঁচা রাস্তাটি দ্রুত পাকা করা হলে আমরা বাঁচতাম।’

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে বড়ইচারা গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচল সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে বাজারজাত করা সম্ভব হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা রাস্তাটি দ্রুত পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।