Dhaka ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু যাত্রা ও সার্কাস শিল্পকে অশ্লীলতামুক্ত করে নিজস্ব গৌরবে ফিরিয়ে আনতে হবে: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম সংসদে সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন চাইলেন জামায়াত এমপি বাংলাদেশই হবে পরবর্তী বিনিয়োগ গন্তব্য: অর্থ উপদেষ্টা কালীগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল সিন্ডিকেটের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ কালীগঞ্জ থানায় ওসির মতবিনিময় সভা নিয়ে বিতর্ক, সাংবাদিকদের ক্ষোভ পোরসায় আমের আড়তে জমজমাট বেচাকেনা সূচকের ঊর্ধ্বগতি, ডিএসইতে লেনদেন ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা জেলা-উপজেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 21

 

মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এ অর্জনে স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) ডিপিডিটির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১-এর মাধ্যমে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। সনদে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় উৎপাদিত এই হাজারী গুড় দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। খেজুরের উৎকৃষ্ট রস থেকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুড় থেকে একে বিশেষভাবে পৃথক করেছে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এই গুড়ের রয়েছে বিশেষ কদর।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য বহনকারী হাজারী গুড় শুধু একটি পণ্য নয়, বরং মানিকগঞ্জের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। জিআই স্বীকৃতির ফলে এর ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই স্বীকৃতির ফলে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের বিপণন ও রপ্তানির সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় এই জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

তার সক্রিয় ভূমিকার ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

জিআই সনদ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাওয়ার পথে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

প্রকাশের সময় : ০৯:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

 

মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এ অর্জনে স্থানীয় উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) ডিপিডিটির মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১-এর মাধ্যমে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। সনদে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে ৩০ শ্রেণিতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় উৎপাদিত এই হাজারী গুড় দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। খেজুরের উৎকৃষ্ট রস থেকে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গুড় থেকে একে বিশেষভাবে পৃথক করেছে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও এই গুড়ের রয়েছে বিশেষ কদর।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য বহনকারী হাজারী গুড় শুধু একটি পণ্য নয়, বরং মানিকগঞ্জের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। জিআই স্বীকৃতির ফলে এর ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই স্বীকৃতির ফলে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়ের বিপণন ও রপ্তানির সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় এই জিআই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

তার সক্রিয় ভূমিকার ফলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

জিআই সনদ প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি পাওয়ার পথে এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।