এআই মামলা; আইনের কথা বলে নিজেই নিয়ম ভাঙলেন ডিএমপি কমিশনার
- প্রকাশের সময় : ০৯:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 6
‘ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সবাই সমান। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন অনুসরণ করা হচ্ছে’—এমন মন্তব্য করার কিছুক্ষণ পরই ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে। রাজধানীর মিন্টো রোডে সাধারণ যানবাহনের জন্য বন্ধ থাকা একটি ক্রসিং ব্যবহার করে তার গাড়িবহরকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো পুলিশ সদস্য আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাফিক আইন সরকারি-বেসরকারি সবার জন্য সমান। পুলিশ সদস্যদেরও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে সদর দপ্তরের দিকে যাওয়ার পথে কমিশনারের গাড়িবহরকে সাধারণ যানবাহনের জন্য বন্ধ থাকা একটি ক্রসিং ব্যবহার করে যেতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিন্টো রোডের ওই অংশ বর্তমানে একমুখী (ওয়ানওয়ে) চলাচলের আওতায় রয়েছে। সেখানে ত্রিভুজাকৃতির ট্রাফিক কোন ও দড়ি দিয়ে একটি সংযোগপথ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মিন্টো রোড থেকে ওই পথে সরাসরি যাওয়া নিষিদ্ধ; যানবাহনকে মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে ঘুরে ইউ-টার্ন নিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটের দিকে কমিশনারের গাড়িবহর পৌঁছানোর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা দড়ির প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে দুই পাশের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এরপর গাড়িবহরটি ক্রসিং অতিক্রম করে গেলে পুনরায় দড়ি টানিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং সাধারণ যানবাহনের জন্য পথটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন পথচারী ও মোটরসাইকেল চালক। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের জন্য যে নিয়ম কার্যকর, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
ওই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালক মেহেদি হাসান বলেন, “মিন্টো রোডের এই ক্রসিংটি কয়েক মাস ধরে সাধারণ যানবাহনের জন্য বন্ধ। ইউ-টার্ন নিতে হলে অনেকটা পথ ঘুরতে হয়। কিন্তু একটি পুলিশ গাড়িবহরকে এই বন্ধ ক্রসিং দিয়েই যেতে দেখলাম।”
আরেক চালক আলামিন বলেন, “নিরাপত্তার কারণে কোনো ভিআইপি বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ পথ ব্যবহার করলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান?”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন কিছু হওয়ার কথা নয়। ডিএমপি কমিশনার অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তার সময়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের ক্ষেত্রেও অযথা সড়ক বন্ধ রাখা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে ডিএমপি কমিশনারের গাড়িবহরকে ঘিরে এ ঘটনার পর সেই অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।























