হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
- প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 28
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ওপার বাংলার রাজ্য রাজনীতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চট্টোপাধ্যায় সিং বাদী হয়ে গত এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগকারী আইনজীবী রিংকু চট্টোপাধ্যায় সিংয়ের দাবি, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ভারতের সাংবিধানিক কাঠামোর চরম অবমাননাকর এবং এটি মূলত প্রতিবেশি দুই দেশ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় কূটনৈতিক সংকট তৈরির এক পরিকল্পিত অপপ্রয়াস।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি স্মারকের এক রাজনৈতিক জনসভা থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশের রাজনীতিক ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকার এবং খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বশরীরে জড়িত আছেন।
আইনজীবী রিংকু চট্টোপাধ্যায় বলেন, কোনো দেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে নিজের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবেশি দেশের মাটিতে হওয়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যোগসাজশের এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
এই উসকানিমূলক বক্তব্যের ফলে দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে চরম শত্রুতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং সীমান্ত অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মমতার এই ধরনের প্ররোচনামূলক মন্তব্য প্রতিবেশি বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে, যা ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও সামগ্রিক জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর হুমকিস্বরূপ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময়ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলে।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সাংবিধানিক শপথে আবদ্ধ থাকলেও তার এই আচরণ দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সম্পূর্ণ বিরোধী এবং এটি ভারতে সাম্প্রদায়িক হিংসা ও জনবিক্ষোভ ছড়ানোর উসকানি হিসেবে কাজ করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এর ১৫২, ১৫৩, ১৫৩এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ ও ৩৫৩ ধারায় মামলা দায়েরের আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী ৮ জুন হাইকোর্ট খুললেই মমতার গ্রেপ্তার দাবি জানিয়ে আদালতে আনুষ্ঠানিক মামলা করবেন বলে বাদী নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, সবটাই জানি’ বলে মন্তব্য করেন।




















