Dhaka ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আওয়ামী লীগের লাশকেও ভয় পায় সরকার : হাছান মাহমুদ এআই মামলা; আইনের কথা বলে নিজেই নিয়ম ভাঙলেন ডিএমপি কমিশনার এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুয়েট অধ্যাপক ছেলে ঘটনার জন্য মা’কেই দায়ী করলেন হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ ইসির, বাড়তে পারে জামানত বন্ধ ও অলাভজনক কারখানায় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোড শো করবে সরকার আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার, বিইআরসির সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ভাঙারিতে বিক্রি, ক্রেতা-বিক্রেতা গ্রেফতার ব্যাংকের নমিনী মানে কি টাকার মালিক? ভুল ধারণা ভাঙুন!
স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ ইসির, বাড়তে পারে জামানত

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 14

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিমালায় বড় ধরনের সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিল, প্রার্থীদের জামানত পুনর্নির্ধারণ, অনলাইন মনোনয়নপত্র দাখিল বাতিল এবং পোস্টার ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব স্তরেও একই বিধান কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের বিধানও বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না রাখার আইন সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এসব নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণবিধিমালা নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

বর্তমানে দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান আইন ও বিধি সংশোধন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। সংসদ নির্বাচনের পর কয়েক মাস পার হলেও এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি।

ইসির আইন ও বিধি সংশোধন-সংক্রান্ত সংস্কার কমিটি ইতোমধ্যে এক দফা বৈঠক করেছে। কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদে বর্তমান জামানতের হার যৌক্তিক কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বর্তমান বিধি অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনে ভোটারসংখ্যার ভিত্তিতে মেয়র প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের জন্যও আলাদা জামানত কাঠামো রয়েছে।

অন্যদিকে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে জামানতের হার পৃথকভাবে নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের জামানত ১ লাখ টাকা, যা আগে ১০ হাজার টাকা ছিল।

ইসি আরও জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিলের পাশাপাশি সব স্তরে জামানতের হার সমন্বয় করার বিষয়েও কাজ চলছে। একই সঙ্গে অনলাইন মনোনয়নপত্র দাখিল এবং পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ, ৩ শতাধিক পৌরসভা, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ (পার্বত্য এলাকা ছাড়া) এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আগামী অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। সরকারের অনুমোদন ও নির্দেশনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ ইসির, বাড়তে পারে জামানত

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধিমালায় বড় ধরনের সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিল, প্রার্থীদের জামানত পুনর্নির্ধারণ, অনলাইন মনোনয়নপত্র দাখিল বাতিল এবং পোস্টার ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব স্তরেও একই বিধান কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের বিধানও বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না রাখার আইন সংশোধন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এসব নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণবিধিমালা নতুন করে প্রণয়ন করতে হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

বর্তমানে দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান আইন ও বিধি সংশোধন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। সংসদ নির্বাচনের পর কয়েক মাস পার হলেও এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা হয়নি।

ইসির আইন ও বিধি সংশোধন-সংক্রান্ত সংস্কার কমিটি ইতোমধ্যে এক দফা বৈঠক করেছে। কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনে জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদে বর্তমান জামানতের হার যৌক্তিক কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বর্তমান বিধি অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনে ভোটারসংখ্যার ভিত্তিতে মেয়র প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের জন্যও আলাদা জামানত কাঠামো রয়েছে।

অন্যদিকে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে জামানতের হার পৃথকভাবে নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের জামানত ১ লাখ টাকা, যা আগে ১০ হাজার টাকা ছিল।

ইসি আরও জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বিধান বাতিলের পাশাপাশি সব স্তরে জামানতের হার সমন্বয় করার বিষয়েও কাজ চলছে। একই সঙ্গে অনলাইন মনোনয়নপত্র দাখিল এবং পোস্টাল ভোট সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধানও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ, ৩ শতাধিক পৌরসভা, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ (পার্বত্য এলাকা ছাড়া) এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আগামী অক্টোবর মাস থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। সরকারের অনুমোদন ও নির্দেশনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।