Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বুয়েট অধ্যাপক ছেলে ঘটনার জন্য মা’কেই দায়ী করলেন হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ ইসির, বাড়তে পারে জামানত বন্ধ ও অলাভজনক কারখানায় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোড শো করবে সরকার আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার, বিইআরসির সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ভাঙারিতে বিক্রি, ক্রেতা-বিক্রেতা গ্রেফতার ব্যাংকের নমিনী মানে কি টাকার মালিক? ভুল ধারণা ভাঙুন! ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুনের প্রথমার্ধে গরমের দাপট, শেষের দিকে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত ৬০ বছর পর ফিরল ‘মাংসখেকো’ স্ক্রুওয়ার্ম পরজীবী, উদ্বেগে খামারিরা

ব্যাংকের নমিনী মানে কি টাকার মালিক? ভুল ধারণা ভাঙুন!

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 19

অনেকের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে—ব্যাংকে ছেলে বা মেয়েকে নমিনি করলে আমানতকারীর মৃত্যুর পর পুরো টাকা শুধু নমিনিই পেয়ে যান, ফলে স্ত্রী বা অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা বঞ্চিত হন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

নমিনি মূলত এমন একজন ব্যক্তি, যাকে আমানতকারী তার মৃত্যুর পর ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ গ্রহণের জন্য মনোনীত করেন। আমানতকারীর মৃত্যু হলে ব্যাংক সেই অর্থ নমিনির কাছে হস্তান্তর করে।

তবে নমিনি সরাসরি মালিক নন; তিনি মূলত একজন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যদি নমিনি একই সঙ্গে আইনগত উত্তরাধিকারী হন, তবে তিনি নিজের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী অর্থ পাবেন। আর যদি তিনি উত্তরাধিকারী না হন, তাহলে তার দায়িত্ব হবে সেই অর্থ প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বাংলাদেশের ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)-এর ১০৩ ধারা অনুযায়ী, আমানতকারীর মৃত্যু হলে ব্যাংক সরাসরি নমিনিকে অর্থ প্রদান করে। ব্যাংক সাধারণত উত্তরাধিকার যাচাই করে না, কারণ তাদের নিকট নমিনিই বৈধ দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হন।

আইন অনুযায়ী, নমিনি অর্থ গ্রহণ করলেও কোনো ওয়ারিশ যদি সেই অর্থের মালিকানা দাবি করেন, তবে তাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। আদালতের রায় অনুযায়ীই প্রকৃত মালিকানা নির্ধারিত হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই আমানতকারী এক বা একাধিক নমিনি নির্ধারণ করেন এবং নির্দিষ্ট অংশও ভাগ করে দিতে পারেন। ব্যাংক কেবল নিবন্ধিত নমিনিকেই অর্থ প্রদান করে, তবে নমিনি বা উত্তরাধিকারী কাউকেই খুঁজে বের করার দায়িত্ব ব্যাংকের নয়।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হন, তবে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ বা অভিভাবকের মাধ্যমে অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হয়।

নমিনি অনুপস্থিত বা মৃত্যুবরণ করলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের কাছে অর্থ হস্তান্তর করা হয় বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে ২০১৬ সালে সঞ্চয়পত্রের নমিনি নিয়ে এক রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করে, সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আমানতকারীর মৃত্যুর পর অর্থ সরাসরি নমিনির পরিবর্তে আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, নমিনি থাকা মানে সম্পদের একমাত্র মালিকানা পাওয়া নয়; বরং এটি একটি দায়িত্বভিত্তিক প্রক্রিয়া, যার চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারিত হয় উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ব্যাংকের নমিনী মানে কি টাকার মালিক? ভুল ধারণা ভাঙুন!

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

অনেকের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে—ব্যাংকে ছেলে বা মেয়েকে নমিনি করলে আমানতকারীর মৃত্যুর পর পুরো টাকা শুধু নমিনিই পেয়ে যান, ফলে স্ত্রী বা অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা বঞ্চিত হন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

নমিনি মূলত এমন একজন ব্যক্তি, যাকে আমানতকারী তার মৃত্যুর পর ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ গ্রহণের জন্য মনোনীত করেন। আমানতকারীর মৃত্যু হলে ব্যাংক সেই অর্থ নমিনির কাছে হস্তান্তর করে।

তবে নমিনি সরাসরি মালিক নন; তিনি মূলত একজন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যদি নমিনি একই সঙ্গে আইনগত উত্তরাধিকারী হন, তবে তিনি নিজের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী অর্থ পাবেন। আর যদি তিনি উত্তরাধিকারী না হন, তাহলে তার দায়িত্ব হবে সেই অর্থ প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বাংলাদেশের ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)-এর ১০৩ ধারা অনুযায়ী, আমানতকারীর মৃত্যু হলে ব্যাংক সরাসরি নমিনিকে অর্থ প্রদান করে। ব্যাংক সাধারণত উত্তরাধিকার যাচাই করে না, কারণ তাদের নিকট নমিনিই বৈধ দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হন।

আইন অনুযায়ী, নমিনি অর্থ গ্রহণ করলেও কোনো ওয়ারিশ যদি সেই অর্থের মালিকানা দাবি করেন, তবে তাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। আদালতের রায় অনুযায়ীই প্রকৃত মালিকানা নির্ধারিত হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই আমানতকারী এক বা একাধিক নমিনি নির্ধারণ করেন এবং নির্দিষ্ট অংশও ভাগ করে দিতে পারেন। ব্যাংক কেবল নিবন্ধিত নমিনিকেই অর্থ প্রদান করে, তবে নমিনি বা উত্তরাধিকারী কাউকেই খুঁজে বের করার দায়িত্ব ব্যাংকের নয়।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো নমিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক হন, তবে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ বা অভিভাবকের মাধ্যমে অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হয়।

নমিনি অনুপস্থিত বা মৃত্যুবরণ করলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের কাছে অর্থ হস্তান্তর করা হয় বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে ২০১৬ সালে সঞ্চয়পত্রের নমিনি নিয়ে এক রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করে, সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে আমানতকারীর মৃত্যুর পর অর্থ সরাসরি নমিনির পরিবর্তে আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, নমিনি থাকা মানে সম্পদের একমাত্র মালিকানা পাওয়া নয়; বরং এটি একটি দায়িত্বভিত্তিক প্রক্রিয়া, যার চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারিত হয় উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে।