Dhaka ০৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বুয়েট অধ্যাপক ছেলে ঘটনার জন্য মা’কেই দায়ী করলেন হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আচরণবিধি সংশোধনের উদ্যোগ ইসির, বাড়তে পারে জামানত বন্ধ ও অলাভজনক কারখানায় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোড শো করবে সরকার আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার, বিইআরসির সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ভাঙারিতে বিক্রি, ক্রেতা-বিক্রেতা গ্রেফতার ব্যাংকের নমিনী মানে কি টাকার মালিক? ভুল ধারণা ভাঙুন! ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুনের প্রথমার্ধে গরমের দাপট, শেষের দিকে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত ৬০ বছর পর ফিরল ‘মাংসখেকো’ স্ক্রুওয়ার্ম পরজীবী, উদ্বেগে খামারিরা

গ্রীষ্মেই ফুটেছে বর্ষার কদম ফুল

নাহিদুর রহমান হিমেল
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 17

সাধারণত বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয় কদম ফুল। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিভেজা দিনে গোলাকার হলুদাভ-সাদা কদম ফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। তবে এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই, গ্রীষ্মের দাবদাহের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটতে শুরু করেছে কদম ফুল। ফলে প্রকৃতিতে যেন আগাম বর্ষার আমেজ তৈরি হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মে মাসের শেষ ভাগ থেকেই কদম গাছে ফুল দেখা যাচ্ছে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাসে কদমের পূর্ণ প্রস্ফুটন ঘটে। কিন্তু এবার স্বাভাবিক সময়ের আগেই ফুল ফোটায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

উদ্ভিদবিদরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, অকাল বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং মৌসুমি জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে অনেক উদ্ভিদের ফুল ফোটার সময়সূচিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কদম ফুলের আগাম প্রস্ফুটনও এমন পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কদম ফুল মূলত বর্ষার প্রতীক। তাই গ্রীষ্মের শেষে কিংবা বর্ষার শুরুতে এই ফুলের দেখা মেলে। কিন্তু এবার যখন এখনও পুরোপুরি বর্ষা শুরু হয়নি, তখনই গাছে গাছে কদম ফুল ফুটে ওঠা প্রকৃতির এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম ফোটা কদম ফুলের ছবি প্রকাশ করছেন। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তীব্র রোদ আর গরমের মধ্যেও কদম গাছের ডালে ডালে ফুটে আছে অসংখ্য ফুল। এতে প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসাহ ও কৌতূহল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কদম গাছ সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়া পছন্দ করে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে গাছগুলো আগেই ফুল ধরতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এ ধরনের পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

কদমের বৈজ্ঞানিক নাম Neolamarckia cadamba। দ্রুত বর্ধনশীল এই বৃক্ষ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, পরিবেশগত গুরুত্বের কারণেও পরিচিত। এটি কার্বন শোষণ, ছায়া প্রদান এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিবেশবিদদের মতে, কদম শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় এটি বনায়ন কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়। কদম গাছ প্রচুর কার্বন শোষণ করে এবং বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করে।

এটি বিভিন্ন পাখি, মৌমাছি, প্রজাপতি ও অন্যান্য পরাগবাহী পোকামাকড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস। কদম ফুলে প্রচুর মধুরস (নেকটার) থাকে, যা অনেক ছোট পাখি ও কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করে। বিশেষ করে সূর্যপাখি (Sunbird) জাতীয় পাখি ফুলের মধু পান করে। এছাড়া মৌমাছি, ভোমরা ও প্রজাপতি কদম ফুল থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে এবং একই সঙ্গে পরাগায়নে সহায়তা করে।

কদম গাছের ফলও কিছু পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাকা ফলের ক্ষুদ্র বীজ ও নরম অংশ বিভিন্ন বন্য পাখি খেয়ে থাকে। তাছাড়া ঘন পাতাযুক্ত কদম গাছ পাখিদের বাসা বাঁধা ও আশ্রয় নেওয়ার জন্যও উপযোগী।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কদম গাছের কাঠ হালকা হলেও বিভিন্ন আসবাব, প্লাইউড, কাগজ ও ম্যাচ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষেরও সম্ভাবনাময় বৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশের বিভিন্ন নার্সারিতে বর্তমানে কদম গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ হিসেবে অনেকেই বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনায় কদম রোপণ করছেন।

প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি হ্রাস এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অনেক এলাকায় কদম গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য কদমসহ দেশীয় বৃক্ষ রোপণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রকৃতির নিয়মে সামান্য পরিবর্তন হলেও কদম ফুলের আগাম প্রস্ফুটন অনেকের কাছে সুখকর বার্তা হয়ে এসেছে। গ্রীষ্মের রুক্ষতার মধ্যেই বর্ষার এই দূতের আগমন যেন প্রকৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে। ফলে বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই কদম ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন মানুষ।

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গ্রীষ্মেই ফুটেছে বর্ষার কদম ফুল

প্রকাশের সময় : ০৪:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

সাধারণত বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হয় কদম ফুল। আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিভেজা দিনে গোলাকার হলুদাভ-সাদা কদম ফুলের সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। তবে এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই, গ্রীষ্মের দাবদাহের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটতে শুরু করেছে কদম ফুল। ফলে প্রকৃতিতে যেন আগাম বর্ষার আমেজ তৈরি হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মে মাসের শেষ ভাগ থেকেই কদম গাছে ফুল দেখা যাচ্ছে। সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাই মাসে কদমের পূর্ণ প্রস্ফুটন ঘটে। কিন্তু এবার স্বাভাবিক সময়ের আগেই ফুল ফোটায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

উদ্ভিদবিদরা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, অকাল বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং মৌসুমি জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে অনেক উদ্ভিদের ফুল ফোটার সময়সূচিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কদম ফুলের আগাম প্রস্ফুটনও এমন পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হতে পারে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কদম ফুল মূলত বর্ষার প্রতীক। তাই গ্রীষ্মের শেষে কিংবা বর্ষার শুরুতে এই ফুলের দেখা মেলে। কিন্তু এবার যখন এখনও পুরোপুরি বর্ষা শুরু হয়নি, তখনই গাছে গাছে কদম ফুল ফুটে ওঠা প্রকৃতির এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম ফোটা কদম ফুলের ছবি প্রকাশ করছেন। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তীব্র রোদ আর গরমের মধ্যেও কদম গাছের ডালে ডালে ফুটে আছে অসংখ্য ফুল। এতে প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসাহ ও কৌতূহল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কদম গাছ সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়া পছন্দ করে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে গাছগুলো আগেই ফুল ধরতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এ ধরনের পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

কদমের বৈজ্ঞানিক নাম Neolamarckia cadamba। দ্রুত বর্ধনশীল এই বৃক্ষ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, পরিবেশগত গুরুত্বের কারণেও পরিচিত। এটি কার্বন শোষণ, ছায়া প্রদান এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিবেশবিদদের মতে, কদম শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় এটি বনায়ন কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়। কদম গাছ প্রচুর কার্বন শোষণ করে এবং বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করে।

এটি বিভিন্ন পাখি, মৌমাছি, প্রজাপতি ও অন্যান্য পরাগবাহী পোকামাকড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস। কদম ফুলে প্রচুর মধুরস (নেকটার) থাকে, যা অনেক ছোট পাখি ও কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করে। বিশেষ করে সূর্যপাখি (Sunbird) জাতীয় পাখি ফুলের মধু পান করে। এছাড়া মৌমাছি, ভোমরা ও প্রজাপতি কদম ফুল থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে এবং একই সঙ্গে পরাগায়নে সহায়তা করে।

কদম গাছের ফলও কিছু পাখির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাকা ফলের ক্ষুদ্র বীজ ও নরম অংশ বিভিন্ন বন্য পাখি খেয়ে থাকে। তাছাড়া ঘন পাতাযুক্ত কদম গাছ পাখিদের বাসা বাঁধা ও আশ্রয় নেওয়ার জন্যও উপযোগী।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কদম গাছের কাঠ হালকা হলেও বিভিন্ন আসবাব, প্লাইউড, কাগজ ও ম্যাচ শিল্পে ব্যবহার করা হয়। দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষেরও সম্ভাবনাময় বৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশের বিভিন্ন নার্সারিতে বর্তমানে কদম গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ হিসেবে অনেকেই বাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনায় কদম রোপণ করছেন।

প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি হ্রাস এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অনেক এলাকায় কদম গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য কদমসহ দেশীয় বৃক্ষ রোপণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রকৃতির নিয়মে সামান্য পরিবর্তন হলেও কদম ফুলের আগাম প্রস্ফুটন অনেকের কাছে সুখকর বার্তা হয়ে এসেছে। গ্রীষ্মের রুক্ষতার মধ্যেই বর্ষার এই দূতের আগমন যেন প্রকৃতিকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছে। ফলে বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই কদম ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন মানুষ।