ঈদের নামাজে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা
- প্রকাশের সময় : ০৬:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
- / 22
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নে ঈদুল আজহার নামাজের সময় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনায় উভয় পক্ষ মামলা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে যশাই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাসিবুন্নবী (সাচ্চু)-এর মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ মে সকাল ৯টার দিকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের সমর্থকরা হাসেম মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে শাকিল মাহমুদ সুজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পরে ভেল্লাবাড়ি ব্রিজ এলাকায় হাফিজুর রহমান পলাশ, লিপু মৃধা ও খন্দকার হাসিবুন্নবী (সাচ্চু)-কেও কুপিয়ে জখম করা হয়। একই ঘটনায় জলিলপাড়া এলাকায় চাঁদ আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার স্ত্রী আলেয়া বেগমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। আহতদের মধ্যে শাকিল মাহমুদ সুজন গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা সবাই খন্দকার হাসিবুন্নবী (সাচ্চু)-এর সমর্থক বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ওই ঘটনার জের ধরে একই দিন বিকেল ৩টার দিকে খন্দকার হাসিবুন্নবী (সাচ্চু)-এর সমর্থকরা হাজরাপাড়া খলিল মোড় এলাকায় আক্তার হোসেন ও অন্তরকে কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে পৃথক দুটি স্থানে হানেফ, জিলাল ও আজাদ মণ্ডলকে মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে আক্তার হোসেন ও অন্তর গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের সমর্থক বলে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের সমর্থক আহত আজাদ মণ্ডলের স্ত্রী রফেজা খাতুন বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় খন্দকার হাসিবুন্নবী (সাচ্চু), রনি খন্দকার, রনজু খন্দকার, আরিফ শেখ, আলিম মণ্ডল, সামছুল খন্দকার, সুমন মণ্ডল ও শুভ খন্দকারকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, খন্দকার হাসিবুন্নবী (সাচ্চু)-এর সমর্থক আহত রানা ইসলাম টিপু বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফজলু শেখ, রাকিব মণ্ডল, সোহান মণ্ডল, আক্তার মণ্ডল, জিলাল মণ্ডল, সিদ্দিক মণ্ডল, আজাদ মণ্ডল, সাবু মণ্ডল, দোলন মণ্ডল, নজরুল শেখ, রবিউল মিয়া ও মোহাম্মদ আলীকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















