বাসভাড়া বাঁচাতে ট্রাকে যাত্রা
সড়কে ঝড়া ১৭ প্রাণের ৯ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার
- প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
- / 31
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। বাসভাড়া বেশি হওয়ায় একটু টাকা সাশ্রয়ের আশায় যাত্রীবাহী বাসের বদলে উঠেছিলেন রডবোঝাই ট্রাকে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই হয়ে উঠলো জীবনের শেষ যাত্রা। টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে ৯ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। একপর্যায়ে ট্রাকটি উল্টে গেলে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে ১৭ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
নিহতদের মধ্যে মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন রয়েছেন। তারা হলেন—রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সুলতান হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ তারেক, আব্দুর রশিদের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল বারেক, আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা, একাব্বরের ছেলে মোহাম্মদ সোহাগ, শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল এবং সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল ও মোহাম্মদ গিয়াসও নিহত হয়েছেন।
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওরা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল সংগ্রহ, ভাঙা মোবাইল ও ছোটখাটো খেলনা বিক্রি করত। ঈদের ছুটিতে সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। বাসে ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া চাওয়ায় তারা ট্রাকে উঠেছিল। একটু টাকা বাঁচাতে গিয়ে আজ সব শেষ হয়ে গেল।”
স্থানীয়রা জানান, নিহতদের বেশিরভাগই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
একই ইউনিয়নের এতজন যুবকের মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় শোকের মাতম চলছে। নিহতদের বাড়িতে চলছে আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু নিহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খোরশেদ আলম জানান, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নিহতদের দাফনসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে পুলিশ।




















