Dhaka ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আশ্বস্ত রামিসার বাবা ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এমটি ফসিল পুলিশের ধাওয়ায় পালানো ‘মাদক ব্যবসায়ীকে’ ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত তিনটি ইনজেকশন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদে কোটচাঁদপুরে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ ইলন মাস্কের পেছনে ‘ছদ্মবেশে’ চীনা নারী জেনারেল, আতিথেয়তার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ শিশুকে লিচু খেতে দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন বিচার বিলম্ব মানে রামিসার পরিবারের যন্ত্রণা দীর্ঘ করা: শাকিব খান বেগম খালেদা জিয়াকে দেখেই রাজনীতিতে এসেছি: স্পিকার হাম ও উপসর্গে এ পর্যন্ত মৃত্যু ৪৯৯, ঢাকায় সর্বোচ্চ ২১০

কুরবানিযোগ্য করতে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে তোলা হলো ছাগলের দাঁত

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / 12

কুরবানিযোগ্য করতে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে তোলা হলো ছাগলের দাঁত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে কুরবানির পশু হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে ছাগলের দাঁত তোলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পৌরসভার মহিলা কলেজ গেটসংলগ্ন একটি ডেন্টাল কেয়ারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনা জানার পর পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকা থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে তারা ছাগলের দাঁত তোলার কথা স্বীকার করেন।

অভিযুক্তরা জানান, ছাগলের দাঁতটি নড়বড়ে ছিল বলে সেটি তুলে ফেলা হয়েছে। পরে ছাগলটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। তবে ছাগলের দাঁত তোলার জন্য মানুষের ডেন্টাল কেয়ারে কেন নেওয়া হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, এখানে দাঁত তোলা হয় জানার পরই তারা এসেছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, কুরবানির মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা নিন্দনীয়। অপরিপক্ব ছাগলের দাঁত তুলে সেটির বয়স গোপন করে কুরবানিযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা প্রতারণার শামিল। একইসঙ্গে এটি প্রাণীর প্রতিও নিষ্ঠুর আচরণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাগলের দাঁত তোলার পর একই সরঞ্জাম দিয়ে মানুষের চিকিৎসা করা হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে ডেন্টাল কেয়ারের মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী না বুঝেই ছাগলের দাঁত তুলেছেন।

রাকিব নামের ওই কর্মচারী দাঁত তোলার কথা স্বীকার করে বলেন, পরিচিত একজন নিয়ে আসায় তিনি দাঁত তুলেছেন। এ জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

ত্রিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কুরবানিযোগ্য করতে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে তোলা হলো ছাগলের দাঁত

প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশালে কুরবানির পশু হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে ডেন্টাল কেয়ারে নিয়ে ছাগলের দাঁত তোলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পৌরসভার মহিলা কলেজ গেটসংলগ্ন একটি ডেন্টাল কেয়ারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনা জানার পর পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকা থেকে লিটন নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে তারা ছাগলের দাঁত তোলার কথা স্বীকার করেন।

অভিযুক্তরা জানান, ছাগলের দাঁতটি নড়বড়ে ছিল বলে সেটি তুলে ফেলা হয়েছে। পরে ছাগলটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। তবে ছাগলের দাঁত তোলার জন্য মানুষের ডেন্টাল কেয়ারে কেন নেওয়া হয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, এখানে দাঁত তোলা হয় জানার পরই তারা এসেছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, কুরবানির মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতারণা নিন্দনীয়। অপরিপক্ব ছাগলের দাঁত তুলে সেটির বয়স গোপন করে কুরবানিযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা প্রতারণার শামিল। একইসঙ্গে এটি প্রাণীর প্রতিও নিষ্ঠুর আচরণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাগলের দাঁত তোলার পর একই সরঞ্জাম দিয়ে মানুষের চিকিৎসা করা হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে ডেন্টাল কেয়ারের মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী না বুঝেই ছাগলের দাঁত তুলেছেন।

রাকিব নামের ওই কর্মচারী দাঁত তোলার কথা স্বীকার করে বলেন, পরিচিত একজন নিয়ে আসায় তিনি দাঁত তুলেছেন। এ জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

ত্রিশাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা বলেন, প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।