দেশজুড়ে জাল টাকার ভয়ানক কারবার, আসল নোট চিনবেন যেভাবে
- প্রকাশের সময় : ০৪:০২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / 30
দেশজুড়ে জাল টাকার কারবার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জাল নোট ছড়িয়ে দিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রগুলো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায়ই ধরা পড়ছে জাল টাকার কারবারিরা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে জাল নোট তৈরি হচ্ছে এবং তা এজেন্ট ও অনলাইন হোম ডেলিভারির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশুর হাটে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন হওয়ায় এই সময় জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ্যে জাল নোট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে জাল নোট তৈরির খরচ অনেক কমে গেছে। আগে যেখানে এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরি করতে ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় আড়াই হাজার টাকায়। ফলে পাইকারি বাজারেও জাল নোটের দাম কমেছে। বর্তমানে এক লাখ টাকার জাল নোট ৬ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও ড. তৌহিদুল হক বলেন, জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামের সহজলভ্যতা, দুর্বল নজরদারি এবং অনলাইনে বিস্তারের কারণে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, জামিনে থাকা অপরাধীদের পর্যবেক্ষণ ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় জাল টাকার বিস্তার কমছে না।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাল নোট প্রতিরোধে সরকার শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। নতুন আইনে জাল নোট তৈরি ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে।
জাল নোট চেনার উপায় হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট গ্রহণের সময় কয়েকটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
জলছাপ (ওয়াটারমার্ক)
নিরাপত্তা সুতা
রং পরিবর্তনশীল কালি
উঁচু বা অসমতল ছাপা
কোনো নোট সন্দেহজনক মনে হলে কোরবানির পশুর হাটে থাকা ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ বা নিকটস্থ ব্যাংকে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট এ।




















