Dhaka ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মমতার বিশ্বস্ত সহকর্মী থেকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দুর উত্থানের গল্প কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন পুলিশকে প্রযুক্তি নির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাজে বোলিংয়ে হতাশায় দিন শেষ করল বাংলাদেশ জন্মের ১০ মাস পর বাবাকে দেখল শিশু, তাও কফিনবন্দি আসামে পরপর দুইবার ভূমিকম্প, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও অনুভূত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ, ২ শতাংশ জমা দিলেই নিয়মিত হবে খেলাপি ঋণ হান্টা ভাইরাস কী, মহামারির আশঙ্কা কতটা? লাইফ সাপোর্টে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি নতুন যুদ্ধ শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী
আগেই হত্যার হুমকি দিয়েছিল স্বামী

‌‘সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই’

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 12

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ বাড়িতে এক পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার পর গৃহকর্তা ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ফোরকান ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন বাবা শাহাদাত মোল্লা। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান।

‘মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

‘গতকাল শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, “তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, “সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই।” ’

ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আগেই হত্যার হুমকি দিয়েছিল স্বামী

‌‘সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই’

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ বাড়িতে এক পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার পর গৃহকর্তা ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ফোরকান ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন বাবা শাহাদাত মোল্লা। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান।

‘মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

‘গতকাল শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, “তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, “সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই।” ’

ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।’