Dhaka ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আগেই হত্যার হুমকি দিয়েছিল স্বামী

‌‘সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই’

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • / 115

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ বাড়িতে এক পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার পর গৃহকর্তা ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ফোরকান ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন বাবা শাহাদাত মোল্লা। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান।

‘মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

‘গতকাল শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, “তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, “সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই।” ’

ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আগেই হত্যার হুমকি দিয়েছিল স্বামী

‌‘সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই’

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজ বাড়িতে এক পরিবারের পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার পর গৃহকর্তা ফোরকান পলাতক রয়েছেন। তার স্ত্রী নিহত শারমিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারমিনের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ভালো ছিল না ফোরকানের। ফোরকান ইতোপূর্বে পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা (পূর্ব পাড়া) গ্রামের তার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত শারমিনের ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, ‘প্রায় এক বছর আগে শারমিন অসুস্থ হয়। পরে আমাদের বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করেন বাবা শাহাদাত মোল্লা। ওই সময় শারমিনের স্বামী ফোরকান বলেছিল, স্ত্রীসহ কাউকে জীবিত রাখবে না। এ কথা শোনার পর আমাদের পরিবারের লোকজন ভেবেছিলেন, তাকে আর স্বামীর ঘরে দেবেন না। কিছুদিন পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন ফোরকান।

‘মাসখানেক আগে ফোরকান বলেছিল, তার প্রাইভেটকার একটি কোম্পানিকে দিয়ে দিয়েছে। মাসে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া হিসেবে। কিন্তু, এরপর থেকে আমরা তার গাড়িও দেখিনি, টাকা আনতেও দেখিনি। তার প্রাইভেটকার বিক্রি করে দিয়েছে নাকি ভাড়া দিয়েছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।

‘গতকাল শুক্রবার (৮ মে) সকালে আমার ছোট ভাই রসুল মোল্লাকে ফোন করে ফোরকান বলে, “তুমি আমার কাপাসিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসো, তোমাকে রাজেন্দ্রপুর এলাকার এন এ জেড পোশাক কারখানায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি নিয়ে দেবো। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা ডিউটি। আমার ভাই রসুল মোল্লা সন্ধ্যা ৬টার দিকে বোনের কাপাসিয়ার ভাড়া বাসায় যায়। রাত ১২টার দিকে ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন করে জানায়, “সবাই মারা গেছে, পরিবারের একজকেও বাঁচিয়ে রাখি নাই।” ’

ফোরকানের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি ফোরকান দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করে রেখেছিল এবং আজই নাকি তার ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। কী কারণে এবং কেন ফোরকান আমার বোন, ভাগনেদের এবং ছোট ভাই রসুলকে এভাবে হত্যা করলো, আমরা বলতে পারছি না।’