Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন রোনালদো: পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের দাবি মাদকবিরোধী বার্তায় বালিয়াকান্দীতে বিবাহিত-অবিবাহিতদের ফুটবল লড়াই বালিয়াকান্দিতে জমি বিরোধে নারী আহত, দেবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ লন্ডনে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি : ইন্টারনেট বন্ধ, আটক সাতশ’র বেশি সরকার দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কালুখালীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ মামলার পর জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেফতার না ফেরার দেশে ‘বীরাঙ্গনা’ ফুলমতি, শেষ হলো ৪৫ বছরের স্বীকৃতির লড়াই

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী যে ছোট সাপ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / 155

আকারে ছোট হলেও প্রাণঘাতী ক্ষমতায় বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর সাপ সো-স্কেলড ভাইপার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপের কামড়ে বিশ্বের অনেক বড় আকারের সাপের তুলনায়ও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

শুষ্ক মরুভূমি ও উষ্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী এই সাপের বিস্তৃতি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে বাদামি বা লালচে বর্ণের শরীরের কারণে এটি সহজেই চোখে পড়ে না— যা মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

মাত্র আড়াই ফুট পর্যন্ত লম্বা হলেও এই সাপের ভয়াবহতার মূল কারণ এর স্বভাব ও বিষ। অন্যান্য অনেক বিষধর সাপ বিপদ বুঝলে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সো-স্কেলড ভাইপার বরং আক্রমণাত্মক আচরণ করে। বিপদের মুখে এটি শরীর পেঁচিয়ে ‘৮’ আকৃতির ভঙ্গি নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

আক্রমণের আগে অনেক সময় এটি শরীরের খাঁজযুক্ত আঁশ ঘষে এক ধরনের ‘সাঁসাঁ’ শব্দ তৈরি করে, যা সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত। তবে এই শব্দ শোনার আগেই অনেক ক্ষেত্রে আঘাত হানতে পারে, ফলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ থাকে খুবই কম।

এই সাপের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী হেমোরেজিক, যা শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এতে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, টিস্যু ক্ষয় এবং রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি হয়। একবার কামড়ে এটি প্রায় ৭০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত বিষ প্রবেশ করাতে পারে, যেখানে মাত্র ৫ মিলিগ্রামই একজন মানুষের প্রাণনাশের জন্য যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের বসতির কাছাকাছি বসবাসের প্রবণতা এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক আচরণের কারণেই এই সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা গেলে জীবন রক্ষা সম্ভব— এটাই বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় আশার কথা।

সূত্র: ইয়াহু

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী যে ছোট সাপ

প্রকাশের সময় : ০১:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

আকারে ছোট হলেও প্রাণঘাতী ক্ষমতায় বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর সাপ সো-স্কেলড ভাইপার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাপের কামড়ে বিশ্বের অনেক বড় আকারের সাপের তুলনায়ও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।

শুষ্ক মরুভূমি ও উষ্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী এই সাপের বিস্তৃতি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত। পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে বাদামি বা লালচে বর্ণের শরীরের কারণে এটি সহজেই চোখে পড়ে না— যা মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

মাত্র আড়াই ফুট পর্যন্ত লম্বা হলেও এই সাপের ভয়াবহতার মূল কারণ এর স্বভাব ও বিষ। অন্যান্য অনেক বিষধর সাপ বিপদ বুঝলে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সো-স্কেলড ভাইপার বরং আক্রমণাত্মক আচরণ করে। বিপদের মুখে এটি শরীর পেঁচিয়ে ‘৮’ আকৃতির ভঙ্গি নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

আক্রমণের আগে অনেক সময় এটি শরীরের খাঁজযুক্ত আঁশ ঘষে এক ধরনের ‘সাঁসাঁ’ শব্দ তৈরি করে, যা সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত। তবে এই শব্দ শোনার আগেই অনেক ক্ষেত্রে আঘাত হানতে পারে, ফলে প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ থাকে খুবই কম।

এই সাপের বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী হেমোরেজিক, যা শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এতে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, টিস্যু ক্ষয় এবং রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি হয়। একবার কামড়ে এটি প্রায় ৭০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত বিষ প্রবেশ করাতে পারে, যেখানে মাত্র ৫ মিলিগ্রামই একজন মানুষের প্রাণনাশের জন্য যথেষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের বসতির কাছাকাছি বসবাসের প্রবণতা এবং দ্রুত আক্রমণাত্মক আচরণের কারণেই এই সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা গেলে জীবন রক্ষা সম্ভব— এটাই বিশেষজ্ঞদের সবচেয়ে বড় আশার কথা।

সূত্র: ইয়াহু