Dhaka ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন রোনালদো: পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের দাবি মাদকবিরোধী বার্তায় বালিয়াকান্দীতে বিবাহিত-অবিবাহিতদের ফুটবল লড়াই বালিয়াকান্দিতে জমি বিরোধে নারী আহত, দেবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ লন্ডনে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি : ইন্টারনেট বন্ধ, আটক সাতশ’র বেশি সরকার দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কালুখালীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ মামলার পর জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেফতার না ফেরার দেশে ‘বীরাঙ্গনা’ ফুলমতি, শেষ হলো ৪৫ বছরের স্বীকৃতির লড়াই

বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল খেতে কেমন?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 170

 

ক্ষুধা আর অভাবের স্মৃতি থেকে জন্ম নেওয়া স্বপ্নই আজ বিশ্বের সবচেয়ে দামি চালের তকমা গায়ে জড়িয়েছে। জাপানের টয়ো রাইস কর্পোরেশনের হাত ধরে আসা ‘কিনমেমাই প্রিমিয়াম’ নামের এই চালটি কেবল স্বাদ বা সুগন্ধের জন্য নয় বরং আকাশচুম্বী দাম এবং আভিজাত্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০১৬ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল হিসেবে নাম লেখানো এই চালটির এক কেজির দাম প্রায় ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সম্প্রতি জাপানিজ শেফ কেনিচি ফুজিমোতো এবং হংকংয়ের প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এই চালের গুণগত মান ও স্বাদের নতুন দিকগুলো উঠে এসেছে।

এই বিশেষ চালের উদ্ভাবক ৯১ বছর বয়সী কেইজি সাইকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপানে খাবারের তীব্র সংকটের সময় ক্ষুধার যে ভয়াবহতা তিনি দেখেছিলেন, সেই স্মৃতিই তাকে চালের মান উন্নয়নে আজীবন উৎসাহিত করেছে। সাইকা জানান, এই প্রজেক্টটি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাপানিজ চালের ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং কৃষকদের উচ্চমানের ফসল উৎপাদনে আগ্রহী করে তোলা।

প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার জাতের চালের মধ্যে থেকে সেরা চার থেকে ছয়টি জাত নির্বাচন করে অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়ায় এই প্রিমিয়াম ব্লেন্ড তৈরি করা হয়। কেবল ফলন নয়, চালের জীবনীশক্তি এবং এনজাইমের মাত্রাও এখানে গুরুত্ব পায়। এরপর কয়েক মাসের বিশেষ প্রক্রিয়ায় চালটিকে পরিপক্ক করা হয়। এই প্রক্রিয়াতেই স্বাদ সমৃদ্ধ করা হয়।

বছরে মাত্র ১০০০ বক্স উৎপাদিত হওয়া এই চাল বাজারে আসার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়। প্রতিটি দানা যেন এক একটি হীরা। রান্নার পর এমন উজ্জ্বলতাই এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

শেফ ফুজিমোতোর মতে, এই চালের প্রতিটি দানা আলাদাভাবে ফুটে থাকে এবং এর সুগন্ধ অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। যদিও অতিরিক্ত দামের কারণে সাধারণ রেস্তোরাঁয় এর ব্যবহার প্রায় অসম্ভব, তবুও জাপানিজ সংস্কৃতিতে এটি এখন আভিজাত্যের প্রতীক। সাইকা বিশ্বাস করেন, মুনাফা অর্জন নয় বরং জাপানের চাল শিল্পের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই তার আসল প্রাপ্তি। জীবনের শেষ প্রান্তেও তিনি প্রতিদিন কারখানায় কাজ করেন এবং মনে করেন চালের প্রতি এই ভালোবাসাই তাকে এখনও প্রাণবন্ত করে রেখেছে।

সূত্র: সিএনএন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল খেতে কেমন?

প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ক্ষুধা আর অভাবের স্মৃতি থেকে জন্ম নেওয়া স্বপ্নই আজ বিশ্বের সবচেয়ে দামি চালের তকমা গায়ে জড়িয়েছে। জাপানের টয়ো রাইস কর্পোরেশনের হাত ধরে আসা ‘কিনমেমাই প্রিমিয়াম’ নামের এই চালটি কেবল স্বাদ বা সুগন্ধের জন্য নয় বরং আকাশচুম্বী দাম এবং আভিজাত্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

২০১৬ সালে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল হিসেবে নাম লেখানো এই চালটির এক কেজির দাম প্রায় ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সম্প্রতি জাপানিজ শেফ কেনিচি ফুজিমোতো এবং হংকংয়ের প্রখ্যাত রন্ধনশিল্পীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এই চালের গুণগত মান ও স্বাদের নতুন দিকগুলো উঠে এসেছে।

এই বিশেষ চালের উদ্ভাবক ৯১ বছর বয়সী কেইজি সাইকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপানে খাবারের তীব্র সংকটের সময় ক্ষুধার যে ভয়াবহতা তিনি দেখেছিলেন, সেই স্মৃতিই তাকে চালের মান উন্নয়নে আজীবন উৎসাহিত করেছে। সাইকা জানান, এই প্রজেক্টটি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাপানিজ চালের ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা এবং কৃষকদের উচ্চমানের ফসল উৎপাদনে আগ্রহী করে তোলা।

প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার জাতের চালের মধ্যে থেকে সেরা চার থেকে ছয়টি জাত নির্বাচন করে অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়ায় এই প্রিমিয়াম ব্লেন্ড তৈরি করা হয়। কেবল ফলন নয়, চালের জীবনীশক্তি এবং এনজাইমের মাত্রাও এখানে গুরুত্ব পায়। এরপর কয়েক মাসের বিশেষ প্রক্রিয়ায় চালটিকে পরিপক্ক করা হয়। এই প্রক্রিয়াতেই স্বাদ সমৃদ্ধ করা হয়।

বছরে মাত্র ১০০০ বক্স উৎপাদিত হওয়া এই চাল বাজারে আসার সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়। প্রতিটি দানা যেন এক একটি হীরা। রান্নার পর এমন উজ্জ্বলতাই এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

শেফ ফুজিমোতোর মতে, এই চালের প্রতিটি দানা আলাদাভাবে ফুটে থাকে এবং এর সুগন্ধ অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। যদিও অতিরিক্ত দামের কারণে সাধারণ রেস্তোরাঁয় এর ব্যবহার প্রায় অসম্ভব, তবুও জাপানিজ সংস্কৃতিতে এটি এখন আভিজাত্যের প্রতীক। সাইকা বিশ্বাস করেন, মুনাফা অর্জন নয় বরং জাপানের চাল শিল্পের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাই তার আসল প্রাপ্তি। জীবনের শেষ প্রান্তেও তিনি প্রতিদিন কারখানায় কাজ করেন এবং মনে করেন চালের প্রতি এই ভালোবাসাই তাকে এখনও প্রাণবন্ত করে রেখেছে।

সূত্র: সিএনএন