খাদ্যদূষণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগ, মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান
- প্রকাশের সময় : ০৬:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 91
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ক্রমবর্ধমান খাদ্যদূষণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, খাদ্যে ভেজাল ও দূষণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি শিশু থেকে বয়স্ক—সবার জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধবিষয়ক এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, খাদ্যে বিভিন্ন ধরনের দূষকের অস্তিত্ব সম্পর্কে সবাই জানলেও তা প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ এখনো পর্যাপ্ত নয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে খাদ্যদূষণ রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে লিখিত প্রস্তাবনা জমা দিতে নির্দেশ দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ তাদের সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করে জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী খাদ্যবাহিত রোগে প্রতি বছর বিশ্বের ৬০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি শিশু। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগ মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকে। তারা আরও জানায়, গত অর্থবছরে ১৭১৩টি খাদ্য নমুনা এবং চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৮১৪টি নমুনা পরীক্ষা করে বেশ কয়েকটিতে অতিরিক্ত মাত্রায় সীসা পাওয়া গেছে। মোট ১৮০টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে সীসা শনাক্ত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকার পানি ও মাছের নমুনায় প্রায় ৩০০ ধরনের ওষুধ, ২০০ ধরনের কীটনাশক এবং ১৬ ধরনের পিএফএএস রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ইউনিসেফের জরিপ অনুযায়ী, দেশে সাড়ে তিন কোটি শিশু সীসার সংস্পর্শে আক্রান্ত। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, সীসা মানবদেহে প্রবেশ করলে তা মস্তিষ্ক, যকৃৎ, কিডনি, হাড় এবং দাঁতে জমা হয় এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত করে। এমনকি দেশের পাঁচ শতাংশ গর্ভবতী নারীর মধ্যেও সীসার সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
বৈঠকে খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হাঁস-মুরগির খামারে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ রয়ে যায়, যা মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। তারা জানান, বড় কোম্পানিগুলো এসব বিষয়ে সতর্ক থাকলেও কিছু অনিয়ন্ত্রিত পোল্ট্রি ফার্ম এখনো নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো এবং কৃষিতে অবৈধ কীটনাশকের ব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর তাড়নায় খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়া চলবে না। তিনি খাদ্যদূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং পাঠ্যপুস্তকে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বৈঠকে কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























