Dhaka ১২:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাজবাড়ীর কালুখালীতে প্রান্তিক পেশাজীবীদের ১০ দিনব্যাপী সফট স্কিলস প্রশিক্ষণ শুরু সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ দক্ষিণ চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘নউল’ ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: নিরাপদ আশ্রয়ে আড়াই লক্ষাধিক মানুষ শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুন নিয়ন্ত্রণে কালীগঞ্জে মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল একসাথে হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকার পতন স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের আহ্বান ১৮ বছরের কম বয়সীরা যেন মোবাইল ব্যবহার করতে না পারে: ভূমিমন্ত্রী

নতুন জাতের বোরোধান চাষে কৃষকের সফলতা

ইমদাদুল হক রানা, বালিয়াকান্দি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 158

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার মাঠে এবার বোরো মৌসুমে বিভিন্ন নতুন জাতের ধান চাষে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ার পর চলতি মৌসুমে হাইব্রিড ও উ”চফলনশীল জাতের ধানে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠে প্রোটিনসমৃদ্ধ, আগাম ফলনশীল ধান চাষ করে কৃষকরা পাচ্ছেন অধিক ফলন ও লাভ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত আগাম জাতের ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে, যা কম সময়ে বেশি ফলন দেয় এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এসব ধানের বাজারে চাহিদাও বেশি থাকায় কৃষকরা আগ্রহের সাথে চাষ করেছেন।

চাষকৃত ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড জাত: টিয়া: ২৫ হেক্টর, এসএল-৮ এইচ: ৬৫ হেক্টর, বায়ার তেজ গোল্ড: ১২ হেক্টর, ধানীগোল্ড: ১৩ হেক্টর,সিনজেনটা ১২০৩: ৫ হেক্টর, উফশী জাত, ব্রিধান-২৯: , ১০ হেক্টর, বিনাধান-২৫: ৪২ হেক্টর। বর্তমানে ইসলামপুর, বহরপুর, নবাবপুর, জঙ্গল, জামালপুর, বালিয়াকান্দি সদর ও নার“য়া ইউনিয়নের মাঠজুড়ে চলছে বোরো ধান কর্তনের ব্যস্ততা। এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক আরশেদ আলী জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে অল্প জমিতে হাইব্রিড ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এবার দুই-তিন পাখি জমিতে চাষ করে প্রতি পাখিতে ২০ মণ ধান পেয়েছি। ধানটি চিকন হওয়ায় অন্য ধানের তুলনায় ৪-৫ মণ বেশি ফলন হয়। ১৪০ দিনের মধ্যেই ধান ঘরে তুলতে পারি।

কৃষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগাম জাতের এই ধান চাষ করে একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব। এতে চিটা বা পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। ধান কাটার পর আউশ ধান এবং পরবর্তীতে আলু, ভুট্টা, সরিষা ও আখ চাষ করা যায়। আমি আগামী বছর এই ধানের চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজন কৃষককে নতুন জাতের ধান বীজ দেওয়া হয়েছিল, যা থেকে ভালো ফলন আসে। এবার উপজেলার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ১২০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ৪১০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ধান চাষ হয়েছে। গড়ে প্রতি পাখিতে ২০ মণ ধান পাওয়া গেছে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, আগামী বছর বোরো মৌসুমে ব্রিধান-৮১ জাতের ধান ৩০-৪০% সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই জাতটি প্রাকৃতিকভাবেই চিকন চাল দেয় এবং মিনিকেটের বিকল্প হিসেবে বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, এই ধানে প্রাকৃতিক প্রোটিন বজায় থাকে, যা মেশিনে ছাঁটাই করা চালের তুলনায় গুণগত মানে এগিয়ে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নতুন জাতের বোরোধান চাষে কৃষকের সফলতা

প্রকাশের সময় : ০৫:২৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার মাঠে এবার বোরো মৌসুমে বিভিন্ন নতুন জাতের ধান চাষে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ার পর চলতি মৌসুমে হাইব্রিড ও উ”চফলনশীল জাতের ধানে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠে প্রোটিনসমৃদ্ধ, আগাম ফলনশীল ধান চাষ করে কৃষকরা পাচ্ছেন অধিক ফলন ও লাভ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত আগাম জাতের ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে, যা কম সময়ে বেশি ফলন দেয় এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এসব ধানের বাজারে চাহিদাও বেশি থাকায় কৃষকরা আগ্রহের সাথে চাষ করেছেন।

চাষকৃত ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড জাত: টিয়া: ২৫ হেক্টর, এসএল-৮ এইচ: ৬৫ হেক্টর, বায়ার তেজ গোল্ড: ১২ হেক্টর, ধানীগোল্ড: ১৩ হেক্টর,সিনজেনটা ১২০৩: ৫ হেক্টর, উফশী জাত, ব্রিধান-২৯: , ১০ হেক্টর, বিনাধান-২৫: ৪২ হেক্টর। বর্তমানে ইসলামপুর, বহরপুর, নবাবপুর, জঙ্গল, জামালপুর, বালিয়াকান্দি সদর ও নার“য়া ইউনিয়নের মাঠজুড়ে চলছে বোরো ধান কর্তনের ব্যস্ততা। এবার ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক আরশেদ আলী জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে অল্প জমিতে হাইব্রিড ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। এবার দুই-তিন পাখি জমিতে চাষ করে প্রতি পাখিতে ২০ মণ ধান পেয়েছি। ধানটি চিকন হওয়ায় অন্য ধানের তুলনায় ৪-৫ মণ বেশি ফলন হয়। ১৪০ দিনের মধ্যেই ধান ঘরে তুলতে পারি।

কৃষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগাম জাতের এই ধান চাষ করে একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব। এতে চিটা বা পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে। ধান কাটার পর আউশ ধান এবং পরবর্তীতে আলু, ভুট্টা, সরিষা ও আখ চাষ করা যায়। আমি আগামী বছর এই ধানের চাষ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজন কৃষককে নতুন জাতের ধান বীজ দেওয়া হয়েছিল, যা থেকে ভালো ফলন আসে। এবার উপজেলার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ১২০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও ৪১০ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের ধান চাষ হয়েছে। গড়ে প্রতি পাখিতে ২০ মণ ধান পাওয়া গেছে।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, আগামী বছর বোরো মৌসুমে ব্রিধান-৮১ জাতের ধান ৩০-৪০% সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই জাতটি প্রাকৃতিকভাবেই চিকন চাল দেয় এবং মিনিকেটের বিকল্প হিসেবে বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এছাড়া, এই ধানে প্রাকৃতিক প্রোটিন বজায় থাকে, যা মেশিনে ছাঁটাই করা চালের তুলনায় গুণগত মানে এগিয়ে।