Dhaka ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চাঁদা না দিলে জাবি অধ্যাপকের সন্তানকে অপহরণের হুমকি বেনাপোল বন্দরের অনিয়ম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রীর কাছে ব্যবসায়ীদের সমাধানের দাবি আগামী তিন মাসে পেপারলেস হচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব নওগাঁয় ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার, একজনের ৬ মামলা আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে: হারুন অর রশিদ জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই বেনাপোলে ট্রাকভাড়া বেড়েছে ৪–৫ হাজার টাকা জাবি সিন্ডিকেটে নাহরিন ইসলাম খানকে মনোনয়নের দাবি পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরখাস্ত

৬ বছরেও পুরোপুরি সুস্থ হননি দুর্বৃত্তের হামলায় আহত সাংবাদিক আজাদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪
  • / 136

ছয় বছরেও পুরোপুরি সুস্থ হননি দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন তিনি। দুটি ব্যাংকে এখনও তার ঋণ রয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা শহরের বাসিন্দা আজাদ দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি। তার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জেরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা করে বাম হাতের আট জায়গায়, ডান হাতের কনুই, আঙুল এবং দুই পা ভেঙে দেয়। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘টোকাই সা¤্র্রাজ্যে দিশেহারা মানুষ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়। ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাংশা পোস্ট অফিসের সামনে আওয়ামী লীগের ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী তার উপর হামলা করে। লোহার রড, হাতুরি দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে প্রথমে পাংশা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে কোনরকমে বেঁচে আছেন তিনি। কিছুটা সুস্থ হয়ে পাংশায় ফেরার পর ২৫ জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর আদালতে মামলা করেছিলেন। নানারকম হুমকি-ধমকি ও চাপে পড়ে মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হন। হামলায় আহত হওয়ার পর জমি ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। অর্থের সংকুলান না হওয়ায় পাংশা কৃষি ব্যাংক থেকে দুই লাখ ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নেন। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, হামলার ক্ষত এখনও বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। সুস্থ হতে পারিনি। জীবন-যাপনেও নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদ দিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছি। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৬ বছরেও পুরোপুরি সুস্থ হননি দুর্বৃত্তের হামলায় আহত সাংবাদিক আজাদ

প্রকাশের সময় : ১২:০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

ছয় বছরেও পুরোপুরি সুস্থ হননি দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন তিনি। দুটি ব্যাংকে এখনও তার ঋণ রয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা শহরের বাসিন্দা আজাদ দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন পত্রিকার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি। তার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের জেরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা করে বাম হাতের আট জায়গায়, ডান হাতের কনুই, আঙুল এবং দুই পা ভেঙে দেয়। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘টোকাই সা¤্র্রাজ্যে দিশেহারা মানুষ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়। ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাংশা পোস্ট অফিসের সামনে আওয়ামী লীগের ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী তার উপর হামলা করে। লোহার রড, হাতুরি দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে প্রথমে পাংশা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে কোনরকমে বেঁচে আছেন তিনি। কিছুটা সুস্থ হয়ে পাংশায় ফেরার পর ২৫ জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর আদালতে মামলা করেছিলেন। নানারকম হুমকি-ধমকি ও চাপে পড়ে মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হন। হামলায় আহত হওয়ার পর জমি ও স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। অর্থের সংকুলান না হওয়ায় পাংশা কৃষি ব্যাংক থেকে দুই লাখ ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নেন। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।
তিনি বলেন, হামলার ক্ষত এখনও বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। সুস্থ হতে পারিনি। জীবন-যাপনেও নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদ দিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছি। তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।