শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

রাজবাড়ীর নারী নেত্রী ও মানবিক আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

নারী নেত্রী, শিশু সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী আর নেই। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

দেবাহুতি চক্রবর্তীর বাবা কুমারেশ চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের এক প্রতিষ্ঠিত চক্রবর্তী পরিবারে তাঁর জন্ম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েও থেমে থাকেননি। ক্যানসার রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে সমমনা ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘রাজবাড়ী ক্যানসার সোসাইটি’। সংগঠনটির মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা-পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হতো।

শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দেবাহুতি চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের শিশুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘আবোল তাবোল’ নামের শিশু সংগঠন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থেকে অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন।

নিঃসন্তান দেবাহুতি চক্রবর্তী মৃত্যুর পর নিজের মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত মানবকল্যাণে তাঁর দায়বদ্ধতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে রাজবাড়ীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার সোম বলেন, ‘দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন মানবিক আইনজীবী। সারা জীবন তিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কাজ করেছেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন “আবোল তাবোল” শিশু সংগঠন।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাইফুর রহমান খোকন মাহমুদ বলেন, ‘দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বাতিঘর। তাঁরা তাঁকে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়া রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি সারা জীবন শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন, নারীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তায় গড়ে তুলেছিলেন ক্যানসার সোসাইটি। সমাজে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে।’

দেবাহুতি চক্রবর্তীর ছোট ভাই ধুর্জটি চক্রবর্তী জানান, শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ রাজবাড়ী শহরের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীর নারী নেত্রী ও মানবিক আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী আর নেই

প্রকাশের সময় : ০৭:০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নারী নেত্রী, শিশু সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তী আর নেই। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

দেবাহুতি চক্রবর্তীর বাবা কুমারেশ চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের এক প্রতিষ্ঠিত চক্রবর্তী পরিবারে তাঁর জন্ম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার পর নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েও থেমে থাকেননি। ক্যানসার রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে সমমনা ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘রাজবাড়ী ক্যানসার সোসাইটি’। সংগঠনটির মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা-পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হতো।

শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দেবাহুতি চক্রবর্তী। রাজবাড়ী শহরের শিশুদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘আবোল তাবোল’ নামের শিশু সংগঠন। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থেকে অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন।

নিঃসন্তান দেবাহুতি চক্রবর্তী মৃত্যুর পর নিজের মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত মানবকল্যাণে তাঁর দায়বদ্ধতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তাঁর মৃত্যুতে রাজবাড়ীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আইন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার সোম বলেন, ‘দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন একজন মানবিক আইনজীবী। সারা জীবন তিনি নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কাজ করেছেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন “আবোল তাবোল” শিশু সংগঠন।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাইফুর রহমান খোকন মাহমুদ বলেন, ‘দেবাহুতি চক্রবর্তী ছিলেন রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বাতিঘর। তাঁরা তাঁকে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছেন। তাঁর চলে যাওয়া রাজবাড়ীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি সারা জীবন শিশুদের নিয়ে কাজ করেছেন, নারীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তায় গড়ে তুলেছিলেন ক্যানসার সোসাইটি। সমাজে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে।’

দেবাহুতি চক্রবর্তীর ছোট ভাই ধুর্জটি চক্রবর্তী জানান, শনিবার সকালে তাঁর মরদেহ রাজবাড়ী শহরের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।