Dhaka ০৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল দখল করে বাড়িঘর

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের লোহারংক খাল দখল করে কাঁচা-পাকা বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সরকারি খালটি ভরাট করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি প্রশাসন সরেজমিনে খালটি শনাক্ত করলেও এখনো দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে আবেদনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, লোহারংক গ্রামের মনির বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাস, বাবুল মোল্লা, ইমারত মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া, সেকেন্দার দাড়িয়া, আউয়াল দাড়িয়া, মানির দাড়িয়া, কাসেম দাড়িয়া, ইব্রাহিম দাড়িয়া, কিবরিয়া বিশ্বাস ও রতন দাসসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালটি ভরাট করে দখল করেছেন। দখল করা জায়গায় কাঁচা-পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি খালটি দখলমুক্ত করার দাবিতে লোহারংক গ্রামের ফরিদ দাড়িয়াসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা খালটি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন।

গত কয়েক দিনে প্রশাসনের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে খালটির সীমানা শনাক্ত করেন এবং সেখানে লাল নিশান দেন। তবে এরপর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও খালটি দখলমুক্ত করা হয়নি। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আবেদনকারী ফরিদ দাড়িয়া বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে লোহারংক খাল দখল করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে আমরা গ্রামবাসী মিলে খালটি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করি। আবেদনের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন মেপে খালটি শনাক্ত করে লাল নিশান গেড়ে দিয়েছেন। এরপর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও খালটি দখলমুক্ত করা হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে দখলদার মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া বলেন, ‘আমার দলিলের জায়গার ওপর দিয়ে গ্রামের লোকজন সরকারি রাস্তা নেওয়ায় আমাকে খালের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা আমাকে ছেড়ে দিলে আমি খালের জায়গা ছেড়ে দেব।’

আরেক দখলদার মনির বিশ্বাস বলেন, ‘খালের জায়গা দখল করে আমি বাড়িঘর নির্মাণ করেছি। প্রশাসন থেকে আমাকে যখন বলা হবে, তখন খালের জায়গা ছেড়ে দেব।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, খালটি মেপে সীমানা নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে। পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল দখল করে বাড়িঘর

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের লোহারংক খাল দখল করে কাঁচা-পাকা বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সরকারি খালটি ভরাট করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি প্রশাসন সরেজমিনে খালটি শনাক্ত করলেও এখনো দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে আবেদনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, লোহারংক গ্রামের মনির বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাস, বাবুল মোল্লা, ইমারত মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া, সেকেন্দার দাড়িয়া, আউয়াল দাড়িয়া, মানির দাড়িয়া, কাসেম দাড়িয়া, ইব্রাহিম দাড়িয়া, কিবরিয়া বিশ্বাস ও রতন দাসসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালটি ভরাট করে দখল করেছেন। দখল করা জায়গায় কাঁচা-পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি খালটি দখলমুক্ত করার দাবিতে লোহারংক গ্রামের ফরিদ দাড়িয়াসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা খালটি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন।

গত কয়েক দিনে প্রশাসনের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে খালটির সীমানা শনাক্ত করেন এবং সেখানে লাল নিশান দেন। তবে এরপর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও খালটি দখলমুক্ত করা হয়নি। এতে আবেদনকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আবেদনকারী ফরিদ দাড়িয়া বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে লোহারংক খাল দখল করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে আমরা গ্রামবাসী মিলে খালটি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করি। আবেদনের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন মেপে খালটি শনাক্ত করে লাল নিশান গেড়ে দিয়েছেন। এরপর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও খালটি দখলমুক্ত করা হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে দখলদার মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া বলেন, ‘আমার দলিলের জায়গার ওপর দিয়ে গ্রামের লোকজন সরকারি রাস্তা নেওয়ায় আমাকে খালের জায়গা দেওয়া হয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা আমাকে ছেড়ে দিলে আমি খালের জায়গা ছেড়ে দেব।’

আরেক দখলদার মনির বিশ্বাস বলেন, ‘খালের জায়গা দখল করে আমি বাড়িঘর নির্মাণ করেছি। প্রশাসন থেকে আমাকে যখন বলা হবে, তখন খালের জায়গা ছেড়ে দেব।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, খালটি মেপে সীমানা নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে। পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।