জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
- প্রকাশের সময় : ০১:০১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 17
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন তিনি।
এর আগে তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া।
তারেক রহমানের এবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
১৯৮০ সালে জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা অব্যাহত থাকার বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন খালেদা জিয়া। এরপর ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভায় তিনি বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।
এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। পাশাপাশি সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জিয়া পরিবারের অংশগ্রহণের যে সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এবার ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।
সূত্র: বাসস
























