Dhaka ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নাব্যতা সংকটে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ ‘একটা আইফোনের জন্য একটা অবুঝ বাচ্চাকে এভাবে মারতে পারে?’ কান্নাজড়িত কন্ঠে এমপি মনিরুল অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু পেয়েছে পুলিশ, জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন মহাদেবপুরে ফিডমিলে বিপুল কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশগত অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, জুলাই থেকেই বাড়তি বেতন মা-বাবার কাছে চিরকুট লিখে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা ‘উনি যে জেলায় যান, সে জেলায়ই কালেমা পড়ে বিয়ে করেন’ নওগাঁর পোরশায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি আটক গত ১৭ বছর দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে: রিজভী কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মনোনীত জাবি সিন্ডিকেট সদস্য?

মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ৬ বার উদ্যোগ নিয়েও কেন ক্ষমা চায়নি জামায়াত?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 16

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নতুন বইয়ে উঠে এসেছে, দলটির ভেতরে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই তা থেমে গেছে। ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

রাজ্জাকের বর্ণনায়, প্রথম সুযোগ আসে ১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর। রাজ্জাক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের পর প্রথম ভাষণেই একাত্তরের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরুন গোলাম আযম। প্রস্তাবে নীতিগতভাবে রাজি হলেও বায়তুল মোকাররমের সমাবেশে গোলাম আযম শুধু সাধারণভাবে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ যা রাজ্জাকের ভাষায় ছিল নিতান্তই দায়সারা।

দ্বিতীয় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক– আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহযোগিতায় সাতটির বেশি খসড়া তৈরি করে শেষে একটি বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছান নেতারা। কিন্তু ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী মত পরিবর্তন করেন বলে রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আবদুর রাজ্জাককে জানান, তার ধারনা, এই কাজটা নিজামী করেছিলেন কোনো এক প্রবীণ নেতার পরামর্শে, যার নাম কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চার বছর পর, ২০০৫ সালে বিষয়টি দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বিরোধীরা যুক্তি দেন, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল না, এমনকি ক্ষমা চাইলে পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হবে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এক সাবেক সংসদ সদস্য। রাজ্জাক পরে লিখেছেন, ইতিহাস প্রমাণ করেছে সেই আশঙ্কা ভিত্তিহীন ছিল।

এরপর ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল। ২০১১ সালে মজলিশে শুরার শেষ উন্মুক্ত অধিবেশনেও রাজ্জাকের তোলা প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর নতুন নেতৃত্বের সময়ও একবার খসড়া তৈরি হয়, বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায়ও একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রস্তুত হয়, কিন্তু সেটিও প্রকাশের মুখ দেখেনি।

রাজ্জাকের মূল্যায়ন, প্রতিবারই দলের ভেতরের প্রভাবশালী একটি অংশ হস্তক্ষেপ করে উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, একাত্তরের ভূমিকা আজও জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে রয়ে গেছে—দুই দশকে অর্ধডজনের বেশি খসড়া বিবৃতি তৈরি হলেও একটিও প্রকাশিত হয়নি।

সূত্র: যুগান্তর

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ৬ বার উদ্যোগ নিয়েও কেন ক্ষমা চায়নি জামায়াত?

প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নতুন বইয়ে উঠে এসেছে, দলটির ভেতরে একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই তা থেমে গেছে। ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

রাজ্জাকের বর্ণনায়, প্রথম সুযোগ আসে ১৯৯৪ সালে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার পর। রাজ্জাক প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের পর প্রথম ভাষণেই একাত্তরের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরুন গোলাম আযম। প্রস্তাবে নীতিগতভাবে রাজি হলেও বায়তুল মোকাররমের সমাবেশে গোলাম আযম শুধু সাধারণভাবে ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে যদি আমি কোনো ভুল করে থাকি, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।’ যা রাজ্জাকের ভাষায় ছিল নিতান্তই দায়সারা।

দ্বিতীয় বড় উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নির্বাচনী বিজয়ের পর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপক– আফতাব আহমেদ, এম মাহবুবউল্লাহ ও আবদুর রবের সহযোগিতায় সাতটির বেশি খসড়া তৈরি করে শেষে একটি বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছান নেতারা। কিন্তু ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী মত পরিবর্তন করেন বলে রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আবদুর রাজ্জাককে জানান, তার ধারনা, এই কাজটা নিজামী করেছিলেন কোনো এক প্রবীণ নেতার পরামর্শে, যার নাম কখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চার বছর পর, ২০০৫ সালে বিষয়টি দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রত্যাখ্যাত হয়। বিরোধীরা যুক্তি দেন, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল না, এমনকি ক্ষমা চাইলে পাকিস্তান অসন্তুষ্ট হবে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন এক সাবেক সংসদ সদস্য। রাজ্জাক পরে লিখেছেন, ইতিহাস প্রমাণ করেছে সেই আশঙ্কা ভিত্তিহীন ছিল।

এরপর ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল। ২০১১ সালে মজলিশে শুরার শেষ উন্মুক্ত অধিবেশনেও রাজ্জাকের তোলা প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। ২০১৬ সালে নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের পর নতুন নেতৃত্বের সময়ও একবার খসড়া তৈরি হয়, বিদেশি আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের সহায়তায়ও একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রস্তুত হয়, কিন্তু সেটিও প্রকাশের মুখ দেখেনি।

রাজ্জাকের মূল্যায়ন, প্রতিবারই দলের ভেতরের প্রভাবশালী একটি অংশ হস্তক্ষেপ করে উদ্যোগ থামিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, একাত্তরের ভূমিকা আজও জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে রয়ে গেছে—দুই দশকে অর্ধডজনের বেশি খসড়া বিবৃতি তৈরি হলেও একটিও প্রকাশিত হয়নি।

সূত্র: যুগান্তর