জাবির সিএলসি ইনস্টিটিউটে পরিচালক নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, নেপথ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ

- প্রকাশের সময় : ০২:১৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 17

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) নতুন পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেপথ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তীর ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালীর দিকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর তমালকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়োগের পরপরই ইনস্টিটিউটের একাংশের শিক্ষার্থীকে আন্দোলনে নামানোর পেছনে সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজার ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, বাইরের কোনো শিক্ষককে নয়, বরং ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে।
তবে গতকাল আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে গণমাধ্যমকে জানান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালীকে সিএলসির পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে তাঁরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন। শিক্ষার্থীদের একাংশের এ আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনের পেছনেও সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শামীম রেজার ভূমিকা রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী জানান, অধ্যাপক শামীম রেজা ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুণাপল্লীর একই বাসায় বসবাস করেন। অনিরুদ্ধ কাহালীর ভাইয়ের মেয়ে স্বচ্ছসলিলা কাহালী তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ভবিষ্যতে তাঁকে এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে পরিচালক পদে বসিয়ে স্বচ্ছসলিলা কাহালীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতেই অধ্যাপক শামীম রেজা ও অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী আন্দোলনের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন। নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাঁরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগাচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাঁর।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. শামীম রেজার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালী বলেন, ‘আমি কোথাও বলিনি যে আমি পরিচালক হতে চাই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি। কেউ যদি আমার নাম প্রস্তাব করে থাকে, সে দায়িত্ব আমি নিতে পারব না। এ আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। যেদিন প্রথম ঘটনা ঘটেছে, সেদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। কোনো পদে যাওয়ার প্রতি আমার আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই। এসব নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা বা আকাঙ্ক্ষাও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কোনো পক্ষ নিয়ে আন্দোলন করা বা কোনো ধরনের কুৎসা তৈরির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমার ভাতিজি ওই ইনস্টিটিউটে পড়ে, এটা কি অপরাধ? আমি চাইলে কি আমার ভাতিজিকে শিক্ষক করতে পারব? তার ফলাফল কি এমন অবস্থানে আছে যে আমি জোর করে তাকে শিক্ষক বানাতে পারব? এগুলো অপপ্রচার।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা মেনেই আমরা পরিচালক নিয়োগ দিয়েছি। কে পরিচালক হবেন, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করেছে। আমি সারাদিন খুঁজেও এখন পর্যন্ত ওই ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পরিষদের হালনাগাদ তথ্য পাইনি। একটি ইনস্টিটিউটের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক কার্যক্রম ও কারিকুলাম পরিচালনা পরিষদ থেকে অনুমোদিত হওয়ার কথা। সেখানে পরিচালনা পরিষদ হালনাগাদ না থাকলে ইনস্টিটিউট কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি প্রশ্নের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ। আমি মনে করি, অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবেন এবং তাঁর নামে এ ধরনের অভিযোগ এলে সেটি খণ্ডন করবেন।’
আশিকুল ইসলাম | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সম্পাদনা-সংক্রান্ত সতর্কতা: প্রতিবেদনটিতে শিক্ষক নিয়োগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আন্দোলনের নেপথ্যে দুই শিক্ষকের ভূমিকার বিষয়টি গুরুতর অভিযোগ। প্রকাশের আগে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সমর্থনযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বক্তব্য যাচাই করা এবং অভিযুক্ত অধ্যাপক শামীম রেজার বক্তব্য নেওয়া জরুরি। অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালীর অস্বীকৃতি ও উপাচার্যের বক্তব্যও যথাযথভাবে রাখা হয়েছে।






















