শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

জামায়াতের একক প্রস্তুতি, দূরত্ব বাড়ছে এনসিপির সঙ্গে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 15

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন এলাকায় চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে দলটি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে নির্বাচনি সমন্বয় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটবদ্ধ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই জামায়াতের। জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় দলটি। ফলে একই এলাকায় জামায়াত ও শরিক দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির নারী উইং জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০০ জনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতির কথা রয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিলে তারাও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এক বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অন্তত এক বছর আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে জামায়াত। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে দলটির।

তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কর্মশালা, প্রশিক্ষণ সভা ও সাংগঠনিক বৈঠক করছে জামায়াত। এসব কর্মসূচিতে প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা, নৈতিকতা, জনসম্পৃক্ততা এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা

জাতীয় পর্যায়ে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক সমন্বয় থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে সেই সমঝোতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে অন্য শরিক দলগুলোকেও নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এতে একই ইউনিয়ন, পৌরসভা বা উপজেলায় জোটের শরিকরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন।

বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির সাংগঠনিক উপস্থিতি রয়েছে, এমন এলাকাগুলোতে প্রার্থী সমন্বয় না হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জামায়াতের একক প্রস্তুতি, দূরত্ব বাড়ছে এনসিপির সঙ্গে

প্রকাশের সময় : ১২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিভিন্ন এলাকায় চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে দলটি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে নির্বাচনি সমন্বয় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোটবদ্ধ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই জামায়াতের। জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় দলটি। ফলে একই এলাকায় জামায়াত ও শরিক দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও দলটির নারী উইং জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ১০০ জনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতির কথা রয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিলে তারাও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এক বছর আগে থেকেই প্রস্তুতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অন্তত এক বছর আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে জামায়াত। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে দলটির।

তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কর্মশালা, প্রশিক্ষণ সভা ও সাংগঠনিক বৈঠক করছে জামায়াত। এসব কর্মসূচিতে প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা, নৈতিকতা, জনসম্পৃক্ততা এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা

জাতীয় পর্যায়ে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক সমন্বয় থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে সেই সমঝোতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে অন্য শরিক দলগুলোকেও নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এতে একই ইউনিয়ন, পৌরসভা বা উপজেলায় জোটের শরিকরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন।

বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির সাংগঠনিক উপস্থিতি রয়েছে, এমন এলাকাগুলোতে প্রার্থী সমন্বয় না হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন