Dhaka ১০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সৌদি আরবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন কৃষক অমিতাভের বাংলো ও দিলজিতের কনসার্টে বোমা হামলার হুমকি মান্দায় ট্যাপেন্টাডল, চোলাই মদের উপাদান ও অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৩ বিয়ের পর অনলাইনে যেসব ৬ বিষয়ে পরামর্শ খোঁজেন নারীরা সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে: নাহিদ রাজবাড়ীতে পদ্মায় গোসল করতে নেমে শিশু নিখোঁজ মধুখালীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী নিহত থাইরয়েড ক্যানসারের ৬ লক্ষণ, যেগুলো অবহেলা করা উচিত নয় কক্সবাজারের হোটেলে ফের আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩ শতাধিক পর্যটক

১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন কৃষক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3

সাধারণ একটি বীজ থেকে জন্ম নেওয়া কুমড়ার ওজন ১ হাজার ৪৩১ কেজি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের কৃষক রন ওয়ালেস ফলিয়েছেন এমনই এক বিশালাকার কুমড়া। গত ১০ অক্টোবর ওজন করার পর কুমড়াটির ওজন পাওয়া যায় ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১ হাজার ৪৩১ কেজি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী কুমড়া ফলানোর নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়া এই কুমড়ার ওজন প্রথমবারের মতো ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা ছাড়িয়েছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ৩ অক্টোবর, যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ডের কুমড়া ফলিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। ওয়ালেসের কুমড়াটি আগের রেকর্ডকে প্রায় ৩০০ পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়।

ছয় মাসের পরিচর্যায় রেকর্ড

চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের গ্রিন এলাকায় নিজের গ্রিনহাউসে কুমড়ার বীজ বুনেছিলেন ওয়ালেস। প্রায় ছয় মাসের পরিচর্যায় সেই বীজ থেকেই জন্ম নেয় রেকর্ড গড়া কুমড়াটি। ১০ অক্টোবর ওয়ারেন শহরের ফ্রেরিকস ফার্মে আয়োজিত সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্স প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন নির্ধারণ করা হয়।

বিশালাকার কুমড়া ফলাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি উন্নত বীজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ বছর গ্রিনহাউসে চাষ করায় পানি ও তাপমাত্রার মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন ওয়ালেস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমড়াটি দ্রুত বেড়ে ওঠার সময় দিনে প্রায় ৬০ পাউন্ড বা ২৭ কেজির বেশি ওজন বাড়ত। কোনো কোনো সপ্তাহে ওজন বেড়েছিল প্রায় ৫০০ পাউন্ড।

গ্রিনহাউসের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্যের বীজও এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া চাষিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কৌশল পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ওয়ালেসের সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ান প্যাটনেরও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মজার বিষয় হলো, গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষের পরামর্শ প্রথম প্যাটনই তাঁকে দিয়েছিলেন।

কুমড়া পরিবহনেও ছিল চ্যালেঞ্জ

বিশালাকার কুমড়াটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়াও ছিল কঠিন কাজ। মাটি থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ হারনেস ও শক্ত দড়ি। পরিবহনের সময় যাতে কুমড়াটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণে মুড়িয়ে বিশেষ প্যালেটের ওপর রাখা হয়। পরে ফ্ল্যাটবেড ট্রাকে করে সেটি প্রতিযোগিতার স্থানে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ২০টি বিশালাকার কুমড়া। অন্যগুলোর তুলনায় নিজের কুমড়াটিকে অনেক বড় দেখে ওয়ালেসের ধারণা হয়েছিল, এর ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ওজন মাপার আগে সঠিক পরিমাণটি তাঁরও জানা ছিল না। বিশ্বরেকর্ড নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

আগেও গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড

বিশালাকার কুমড়া চাষে ওয়ালেসের সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ডের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। ২০১২ সালে তাঁর ফলানো ২ হাজার ৯ পাউন্ডের কুমড়াও নতুন রেকর্ড গড়েছিল। এবার ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা ছাড়িয়ে আবারও ইতিহাস গড়লেন তিনি।

রেকর্ড গড়া কুমড়াটি বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শন করা হবে। পরে এটিকে বিশালাকার জ্যাক-ও-ল্যান্টার্নে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রদর্শনী শেষ হলে কুমড়াটি কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এর বীজ সংরক্ষণ করবেন ওয়ালেস। বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনকে সেই বীজ দেওয়া হবে, যাতে নিলামের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

এত বড় কুমড়া আর কতটা বড় হতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন ওয়ালেস। আপাতত আগামী বছর প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। অন্য চাষিরা তাঁর রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করবেন। কেউ সফল হলে আবার প্রতিযোগিতায় ফেরার কথা ভাববেন এই কৃষক। ফলে ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ডের কুমড়াটিই সর্বোচ্চ কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভবিষ্যতের জন্য।

সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন কৃষক

প্রকাশের সময় : ১০:২৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সাধারণ একটি বীজ থেকে জন্ম নেওয়া কুমড়ার ওজন ১ হাজার ৪৩১ কেজি! অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের কৃষক রন ওয়ালেস ফলিয়েছেন এমনই এক বিশালাকার কুমড়া। গত ১০ অক্টোবর ওজন করার পর কুমড়াটির ওজন পাওয়া যায় ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১ হাজার ৪৩১ কেজি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী কুমড়া ফলানোর নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়া এই কুমড়ার ওজন প্রথমবারের মতো ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা ছাড়িয়েছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ৩ অক্টোবর, যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ডের কুমড়া ফলিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। ওয়ালেসের কুমড়াটি আগের রেকর্ডকে প্রায় ৩০০ পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়।

ছয় মাসের পরিচর্যায় রেকর্ড

চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের গ্রিন এলাকায় নিজের গ্রিনহাউসে কুমড়ার বীজ বুনেছিলেন ওয়ালেস। প্রায় ছয় মাসের পরিচর্যায় সেই বীজ থেকেই জন্ম নেয় রেকর্ড গড়া কুমড়াটি। ১০ অক্টোবর ওয়ারেন শহরের ফ্রেরিকস ফার্মে আয়োজিত সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্স প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন নির্ধারণ করা হয়।

বিশালাকার কুমড়া ফলাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি উন্নত বীজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ বছর গ্রিনহাউসে চাষ করায় পানি ও তাপমাত্রার মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন ওয়ালেস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমড়াটি দ্রুত বেড়ে ওঠার সময় দিনে প্রায় ৬০ পাউন্ড বা ২৭ কেজির বেশি ওজন বাড়ত। কোনো কোনো সপ্তাহে ওজন বেড়েছিল প্রায় ৫০০ পাউন্ড।

গ্রিনহাউসের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্যের বীজও এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া চাষিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কৌশল পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ওয়ালেসের সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ান প্যাটনেরও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মজার বিষয় হলো, গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষের পরামর্শ প্রথম প্যাটনই তাঁকে দিয়েছিলেন।

কুমড়া পরিবহনেও ছিল চ্যালেঞ্জ

বিশালাকার কুমড়াটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়াও ছিল কঠিন কাজ। মাটি থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ হারনেস ও শক্ত দড়ি। পরিবহনের সময় যাতে কুমড়াটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণে মুড়িয়ে বিশেষ প্যালেটের ওপর রাখা হয়। পরে ফ্ল্যাটবেড ট্রাকে করে সেটি প্রতিযোগিতার স্থানে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ২০টি বিশালাকার কুমড়া। অন্যগুলোর তুলনায় নিজের কুমড়াটিকে অনেক বড় দেখে ওয়ালেসের ধারণা হয়েছিল, এর ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে ওজন মাপার আগে সঠিক পরিমাণটি তাঁরও জানা ছিল না। বিশ্বরেকর্ড নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

আগেও গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড

বিশালাকার কুমড়া চাষে ওয়ালেসের সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ডের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। ২০১২ সালে তাঁর ফলানো ২ হাজার ৯ পাউন্ডের কুমড়াও নতুন রেকর্ড গড়েছিল। এবার ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা ছাড়িয়ে আবারও ইতিহাস গড়লেন তিনি।

রেকর্ড গড়া কুমড়াটি বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শন করা হবে। পরে এটিকে বিশালাকার জ্যাক-ও-ল্যান্টার্নে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রদর্শনী শেষ হলে কুমড়াটি কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এর বীজ সংরক্ষণ করবেন ওয়ালেস। বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনকে সেই বীজ দেওয়া হবে, যাতে নিলামের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

এত বড় কুমড়া আর কতটা বড় হতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন ওয়ালেস। আপাতত আগামী বছর প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। অন্য চাষিরা তাঁর রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করবেন। কেউ সফল হলে আবার প্রতিযোগিতায় ফেরার কথা ভাববেন এই কৃষক। ফলে ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ডের কুমড়াটিই সর্বোচ্চ কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভবিষ্যতের জন্য।

সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস