Dhaka ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : রাষ্ট্রপতি ইরানের সরকার উৎখাতের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯৬৩ শিশু নিহত পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা ও খাসি নেওয়ার অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর প্রটোকল ভঙ্গ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ নওগাঁয় নবমীর রাত পর্যন্ত ১২৮ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য ধলু নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১২ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ সাত জটিল রোগে আক্রান্তরা পাবেন এক লাখ টাকা, আবেদন করবেন যেভাবে বিএনপিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর তারেক রহমান, সতর্ক নেতা-কর্মীরা বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

টুপটুপ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় প্রাণ হারায় ১০ পর্যটক : পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

‘এ গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ইন বাংলাদেশি হসপিটালিটি’ অর্থাৎ বাংলাদেশি আতিথেয়তায় বিশ্বমানের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের শুরু থেকে গত দুই বছর ধরে কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ব্যবহার করে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করলেও কার্যত চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছিল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে টুপটুপে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নিহতের স্বজনেরা এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিলেও স্বপ্রণোদিত হয়ে সেদিনই মালিক-ম্যানেজারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর দায়ে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালতে এই মামলায় গ্রেপ্তার সুমনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে রিসোর্ট পরিচালনায় টুপটুপের মালিক ও কর্মীদের যথেষ্ট দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার তথ্য উঠে এসেছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন থাকায় মহামান্য আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি তানভীর সুলতান মিয়া ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদসহ অপরাপর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সোমবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ঢাকার মালিবাগ ফরেনসিক ল্যাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘর থেকে উখিয়া থানা পুলিশের পাঠানো নিহত ১০ জনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।

আতিকুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, পরিচয় শনাক্তে স্বজনদের দেওয়া নমুনার সাথে নিহতদের নমুনা মিলিয়ে দেখার কর্মপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সিআইডি।

মরদেহের জন্য অপেক্ষারত নিহতের স্বজনরা বলছেন, টুপটুপে সঠিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের পেশাদারত্ব থাকলে তাদের প্রিয়জনদের নির্মম পরিণতি হতো না।

পরিবারের ৬ সদস্য হারানো ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপন বলেন, জানি না মরদেহগুলো কখন ফেরত পাবো, আশা করি, প্রশাসন আমাদের অপেক্ষাকে দীর্ঘতর করবে না। টুপটুপ কর্তৃপক্ষ সচেতন না থাকায় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, শনিবার পুলিশ-বিজিবির সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ১০টি মরদেহ কক্সবাজারে নিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিস এবং সেগুলো বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

টুপটুপ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় প্রাণ হারায় ১০ পর্যটক : পুলিশ

প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

‘এ গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড ইন বাংলাদেশি হসপিটালিটি’ অর্থাৎ বাংলাদেশি আতিথেয়তায় বিশ্বমানের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের শুরু থেকে গত দুই বছর ধরে কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের ব্যবহার করে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করলেও কার্যত চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছিল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে টুপটুপে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নিহতের স্বজনেরা এখন পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিলেও স্বপ্রণোদিত হয়ে সেদিনই মালিক-ম্যানেজারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর দায়ে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশীষ সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালতে এই মামলায় গ্রেপ্তার সুমনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে রিসোর্ট পরিচালনায় টুপটুপের মালিক ও কর্মীদের যথেষ্ট দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার তথ্য উঠে এসেছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন থাকায় মহামান্য আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি তানভীর সুলতান মিয়া ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদসহ অপরাপর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সোমবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ঢাকার মালিবাগ ফরেনসিক ল্যাবে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘর থেকে উখিয়া থানা পুলিশের পাঠানো নিহত ১০ জনের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।

আতিকুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, পরিচয় শনাক্তে স্বজনদের দেওয়া নমুনার সাথে নিহতদের নমুনা মিলিয়ে দেখার কর্মপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সিআইডি।

মরদেহের জন্য অপেক্ষারত নিহতের স্বজনরা বলছেন, টুপটুপে সঠিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের পেশাদারত্ব থাকলে তাদের প্রিয়জনদের নির্মম পরিণতি হতো না।

পরিবারের ৬ সদস্য হারানো ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপন বলেন, জানি না মরদেহগুলো কখন ফেরত পাবো, আশা করি, প্রশাসন আমাদের অপেক্ষাকে দীর্ঘতর করবে না। টুপটুপ কর্তৃপক্ষ সচেতন না থাকায় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, শনিবার পুলিশ-বিজিবির সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ১০টি মরদেহ কক্সবাজারে নিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিস এবং সেগুলো বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।