Dhaka ০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
৫১৪ টাকার বিদেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না : চিফ প্রসিকিউটর বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী শেভরন পত্নীতলায় ট্যাপেন্টাডলসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি, সভাপতি মুন্না, সম্পাদক শরিফুল প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে আজাদ আবুল কালাম সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের আশ্বাস ডা. জুবাইদার ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল দম্পতির সাড়ে ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

৫১৪ টাকার বিদেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়

মনির হোসেন, বেনাপোল
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 7

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ইলিশের আমদানি বেড়েছে। আমদানিকারকদের হিসাবে কেজিপ্রতি প্রায় ৫১৪ টাকা খরচে আসা এসব ইলিশ বেনাপোল, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ বলে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ এসেছে। এসব মাছের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে মোট ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দুই মাসে ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত থেকে ঋণপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা ইলিশের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২৫২ টাকা। এর সঙ্গে সরকারি শুল্ক ১৬২ টাকা এবং ট্রাক ভাড়া, ঋণপত্রের খরচসহ অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে কেজিপ্রতি মোট খরচ পড়ে প্রায় ৫১৪ টাকা। অথচ বাজারে এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিতে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও মিয়ানমারের ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢুকছে। তবে বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমারের ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। বাজারে এসব মাছকে অনেকে ‘রোহিঙ্গা ইলিশ’ নামেও প্রচার করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দেখতে অনেকটা দেশি ইলিশের মতো হওয়ায় বিদেশি ইলিশকে পদ্মার ইলিশ, চাঁদপুর, বরিশাল কিংবা চট্টগ্রামের ইলিশের পরিচয়ে বিক্রি করছেন কিছু ব্যবসায়ী। ক্রেতারা দেশি ইলিশ মনে করে মাছ কিনলেও বাড়িতে রান্নার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারছেন। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন তাঁরা।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, ‘চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন। মাছ ভালোভাবে পরীক্ষা করেই আমরা কোয়ারেন্টাইন সনদ দিয়ে থাকি।’

বেনাপোল বাজারে ইলিশ কিনতে আসা মো. মহিউদ্দিন বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে তিনি একটি মাছ কিনেছিলেন। পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারেন, স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মতো নয়। তাঁর ভাষ্য, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন।

আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কখনও চাঁদপুর, কখনও বরিশাল, কখনও চট্টগ্রামের ইলিশের নাম করে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ এসব মাছ ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। একশ্রেণির ব্যবসায়ী চড়া দামে মাছ বিক্রি করে ক্রেতাদের প্রতারিত করছেন। আমরা চাই, আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

বাজারের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশি ইলিশের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। বিপরীতে কথিত ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশের দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আকারে তুলনামূলক বড় ও দামে কম হওয়ায় এসব বিদেশি ইলিশের দিকে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। এতে দেশি ইলিশের বিক্রিও কমেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

নাভারন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী যাদব হালদার বলেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে এসব মাছ ভারত হয়ে আসছে বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর দাবি, বাগআচড়ার কুদ্দুস ও বেনাপোলের জাফর নামের দুই ব্যক্তি এসব মাছ আমদানি করছেন। তবে মাছগুলো ঋণপত্রের মাধ্যমে বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল বাজারের দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী উৎস্য মন্ডল, বাবু, মাহাবুব, মোস্তাফিজুর ও পরিতোষ বিশ্বাসসহ কয়েকজন বলেন, কম দামে বড় আকারের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। বিদেশি মাছকে দেশি ইলিশের নামে বিক্রি করা হলে ক্রেতা ও দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আমদানিকারকদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে ঋণপত্রের মাধ্যমে সরকারি শুল্ক পরিশোধ করে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করেছি। মাছ আড়তদারদের কাছে বিক্রি করি। তাঁরা বাজারে কী পরিচয়ে বিক্রি করেন, সেটা তাঁদের বিষয়।’

এদিকে একটি সূত্রের দাবি, বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবেও কিছু ইলিশ দেশে এসেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন, প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশ দেশি বলে বিক্রি হলেও বিষয়টি তদারকিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই। তাঁদের দাবি, এসব মাছের উৎস ও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা এবং বিদেশি ইলিশ দেশি বলে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৫১৪ টাকার বিদেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়

প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ইলিশের আমদানি বেড়েছে। আমদানিকারকদের হিসাবে কেজিপ্রতি প্রায় ৫১৪ টাকা খরচে আসা এসব ইলিশ বেনাপোল, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ বলে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

কাস্টমস ও ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ এসেছে। এসব মাছের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে মোট ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। দুই মাসে ফেমাস ট্রেডার্স, সততা ফিস ফিড, শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্বর্ণালী ইন্টারন্যাশনাল ও রাব্বি এন্টারপ্রাইজসহ ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত থেকে ঋণপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা ইলিশের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২৫২ টাকা। এর সঙ্গে সরকারি শুল্ক ১৬২ টাকা এবং ট্রাক ভাড়া, ঋণপত্রের খরচসহ অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে কেজিপ্রতি মোট খরচ পড়ে প্রায় ৫১৪ টাকা। অথচ বাজারে এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজিতে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও মিয়ানমারের ইলিশ ভারত হয়ে বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢুকছে। তবে বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয়। মিয়ানমারের ইলিশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। বাজারে এসব মাছকে অনেকে ‘রোহিঙ্গা ইলিশ’ নামেও প্রচার করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, দেখতে অনেকটা দেশি ইলিশের মতো হওয়ায় বিদেশি ইলিশকে পদ্মার ইলিশ, চাঁদপুর, বরিশাল কিংবা চট্টগ্রামের ইলিশের পরিচয়ে বিক্রি করছেন কিছু ব্যবসায়ী। ক্রেতারা দেশি ইলিশ মনে করে মাছ কিনলেও বাড়িতে রান্নার পর স্বাদ ও গন্ধে পার্থক্য বুঝতে পারছেন। ফলে প্রতারিত হচ্ছেন তাঁরা।

বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, ‘চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৭ কেজি ইলিশ আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ২২ জন আমদানিকারক এসব মাছ এনেছেন। মাছ ভালোভাবে পরীক্ষা করেই আমরা কোয়ারেন্টাইন সনদ দিয়ে থাকি।’

বেনাপোল বাজারে ইলিশ কিনতে আসা মো. মহিউদ্দিন বলেন, দেশি ইলিশ মনে করে তিনি একটি মাছ কিনেছিলেন। পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারেন, স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মতো নয়। তাঁর ভাষ্য, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন।

আরেক ক্রেতা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘কখনও চাঁদপুর, কখনও বরিশাল, কখনও চট্টগ্রামের ইলিশের নাম করে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ এসব মাছ ভারত ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা। একশ্রেণির ব্যবসায়ী চড়া দামে মাছ বিক্রি করে ক্রেতাদের প্রতারিত করছেন। আমরা চাই, আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

বাজারের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশি ইলিশের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। বিপরীতে কথিত ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশের দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। আকারে তুলনামূলক বড় ও দামে কম হওয়ায় এসব বিদেশি ইলিশের দিকে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। এতে দেশি ইলিশের বিক্রিও কমেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

নাভারন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী যাদব হালদার বলেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে এসব মাছ ভারত হয়ে আসছে বলে তিনি শুনেছেন। তাঁর দাবি, বাগআচড়ার কুদ্দুস ও বেনাপোলের জাফর নামের দুই ব্যক্তি এসব মাছ আমদানি করছেন। তবে মাছগুলো ঋণপত্রের মাধ্যমে বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল বাজারের দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী উৎস্য মন্ডল, বাবু, মাহাবুব, মোস্তাফিজুর ও পরিতোষ বিশ্বাসসহ কয়েকজন বলেন, কম দামে বড় আকারের বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। বিদেশি মাছকে দেশি ইলিশের নামে বিক্রি করা হলে ক্রেতা ও দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আমদানিকারকদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা বৈধভাবে ঋণপত্রের মাধ্যমে সরকারি শুল্ক পরিশোধ করে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করেছি। মাছ আড়তদারদের কাছে বিক্রি করি। তাঁরা বাজারে কী পরিচয়ে বিক্রি করেন, সেটা তাঁদের বিষয়।’

এদিকে একটি সূত্রের দাবি, বৈধ আমদানির পাশাপাশি অবৈধভাবেও কিছু ইলিশ দেশে এসেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন, প্রায় ৩৬০ কেজি ভারতীয় ইলিশ জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশ দেশি বলে বিক্রি হলেও বিষয়টি তদারকিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই। তাঁদের দাবি, এসব মাছের উৎস ও পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা এবং বিদেশি ইলিশ দেশি বলে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।