Dhaka ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে আজাদ আবুল কালাম সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের আশ্বাস ডা. জুবাইদার ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল দম্পতির সাড়ে ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ পদ্মা নদীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, পানি কমেছে ৬ সেন্টিমিটার চালু হয়েছে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটিপূর্ণ ইউনিট সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত বেকারি পণ্যের দাম বাড়ল ২০ শতাংশ, চাপে ভোক্তা

ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল দম্পতির সাড়ে ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০২:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 4

 

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা প্রায় ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা অর্থে কেনা বাড়ির তথ্য জানতে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি আদালতের আদেশে ক্রোক করা এসব সম্পদের মধ্যে রাজধানীর বারিধারা, গুলশান, বসুন্ধরা, নিকুঞ্জ, মাতুয়াইল ও যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক ও আদালত সূত্র জানায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর অনুসন্ধানে তার নামে থাকা এসব সম্পদের তথ্য পায় দুদক।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান-বারিধারা এলাকায় ৮ কাঠা বা ১৩ দশমিক ২২২ শতাংশ জমিসহ একটি বাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নাল জমি ও প্লট, ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী মৌজায় এবং মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীতে বড় আকারের নাল জমি ও পুকুর, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুয়াকাটায় ৬ দশমিক ১৬ একর নামা জমি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায় একাধিক আবাসিক প্লট ও জমি রয়েছে।

অন্যদিকে, তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল ভূমি এবং গুলশান আবাসিক এলাকায় একাধিক বাড়ি ও প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।

সব মিলিয়ে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এসব সম্পদের বেশিরভাগই বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট, নাল জমি, বাড়ি এবং ফ্ল্যাট।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নজরুল ইসলাম ঢাকা বোট ক্লাব, ঢাকা ক্লাব ও গুলশান ক্লাবসহ ১৪টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য। অনুসন্ধানে নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের তথ্যও পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে নজরুল ইসলাম ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে ওয়েলিংটনে একটি বাড়ি কেনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বাড়ির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

মো. নজরুল ইসলাম ও অন্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। এ ছাড়া আরও পাঁচ থেকে সাতটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল দম্পতির সাড়ে ৫৭ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

প্রকাশের সময় : ০২:৪২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে থাকা প্রায় ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা অর্থে কেনা বাড়ির তথ্য জানতে আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার উদ্যোগ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি আদালতের আদেশে ক্রোক করা এসব সম্পদের মধ্যে রাজধানীর বারিধারা, গুলশান, বসুন্ধরা, নিকুঞ্জ, মাতুয়াইল ও যাত্রাবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদক ও আদালত সূত্র জানায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের সঞ্চয়ের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের নামে অতিরিক্ত দামে জমি কেনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর অনুসন্ধানে তার নামে থাকা এসব সম্পদের তথ্য পায় দুদক।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলামের নামে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান-বারিধারা এলাকায় ৮ কাঠা বা ১৩ দশমিক ২২২ শতাংশ জমিসহ একটি বাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নাল জমি ও প্লট, ময়মনসিংহের ভালুকার হবিরবাড়ী মৌজায় এবং মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ীতে বড় আকারের নাল জমি ও পুকুর, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কুয়াকাটায় ৬ দশমিক ১৬ একর নামা জমি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সদর এলাকায় একাধিক আবাসিক প্লট ও জমি রয়েছে।

অন্যদিকে, তার স্ত্রী তাসলিমা ইসলামের নামে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৯ কোটি ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া ও সলিমাবাদ এলাকায় প্রায় শতাধিক শতাংশ নাল ভূমি এবং গুলশান আবাসিক এলাকায় একাধিক বাড়ি ও প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।

সব মিলিয়ে নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের আর্থিক মূল্য প্রায় ৫৭ কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এসব সম্পদের বেশিরভাগই বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট, নাল জমি, বাড়ি এবং ফ্ল্যাট।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নজরুল ইসলাম ঢাকা বোট ক্লাব, ঢাকা ক্লাব ও গুলশান ক্লাবসহ ১৪টি অভিজাত ক্লাবের সদস্য। অনুসন্ধানে নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের তথ্যও পাওয়া গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে নজরুল ইসলাম ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি, যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে ওয়েলিংটনে একটি বাড়ি কেনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই বাড়ির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক।

মো. নজরুল ইসলাম ও অন্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। এ ছাড়া আরও পাঁচ থেকে সাতটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।