Dhaka ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিনবাজারে পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় মারধরের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বড়দেশি এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আলতাব হোসেন ঢাকার মালিবাগে এসবির কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি বড়দেশি এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মসজিদের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব হোসেন। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি।

আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে নিজের কারখানায় ফিরে যান।

বিষয়টি জানতে পেরে তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম বাবার সঙ্গে কারখানার বাইরে বের হন। এ সময় আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম সেখানে ছিলেন না।

পরিবারের দাবি, কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়।

পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে নিয়মিত ঘোরাফেরা করত। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকতেন।

তার অভিযোগ, কারখানার পাশে বালু ফেলে একটি মাঠের মতো জায়গা তৈরি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিরা সেখানে নেশা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে।

তিনি জানান, আবুল কাশেম, ‘কুত্তা মিজান’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আমিনবাজারে পুলিশের এসবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ০১:৪৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় মারধরের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে বড়দেশি এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আলতাব হোসেন ঢাকার মালিবাগে এসবির কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি বড়দেশি এলাকায় নিজের পাঁচ শতাংশ জমিতে টিনশেডের একটি কারখানায় মিনি গার্মেন্টস পরিচালনা করতেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মসজিদের সামনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব হোসেন। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি।

আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকজন গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও তাকে চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে নিজের কারখানায় ফিরে যান।

বিষয়টি জানতে পেরে তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম বাবার সঙ্গে কারখানার বাইরে বের হন। এ সময় আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম সেখানে ছিলেন না।

পরিবারের দাবি, কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। গাড়িতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়।

পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার তাদের কারখানার সামনে নিয়মিত ঘোরাফেরা করত। গাড়িটিতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকতেন।

তার অভিযোগ, কারখানার পাশে বালু ফেলে একটি মাঠের মতো জায়গা তৈরি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিরা সেখানে নেশা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে।

তিনি জানান, আবুল কাশেম, ‘কুত্তা মিজান’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।