বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
১২০ কোটি ডলার ঋণ ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ লেখক রবার্ট কিয়োসাকির শচীনকে ছাড়িয়ে আরও এক রেকর্ড গড়লেন কোহলি আইডিয়া চুরি করছে এআই, গবেষকদের শঙ্কা ওয়ার্মআপ ম্যাচ ছাড়াই সাফ অভিযান, চিন্তিত নন ডুলি? ক্লডের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করার অনুরোধ অ্যানথ্রপিকের অনুশীলনে কনওয়ের মাথায় আঘাত, ভারতের বিপক্ষে নামার আগে ধাক্কা খেল নিউজিল্যান্ড সেকেন্ডে শরীর ভেদ করে যায় ১০০ ট্রিলিয়ন কণা, ‘গোস্ট পার্টিকেল’ নিউট্রিনো গবেষণায় এবারের নোবেল এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার ইতিহাস বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান নিরাপত্তা শঙ্কায় আল-নাসরের সফরে নেই রোনালদো

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক জোটের নাম ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 70

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। সোমবার ইস্তাম্বুলে তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর জোটটির নাম ঘোষণা করা হয়।

বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, জোটের স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আন্তর্জাতিক নীতির ভিত্তিতে জোটটি পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অন্যান্য দেশের জন্যও এই অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর সামরিক কাঠামোয় রূপ দিতে গঠন করা হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটি। সোমবারের ইস্তাম্বুল বৈঠকে কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বৈঠকে সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, অস্ত্র উৎপাদন ও গবেষণা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা কীভাবে কার্যকর হবে, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সামরিক প্রতিক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিকে অনেকেই ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই জোটের এখনও ন্যাটোর মতো সমন্বিত কমান্ড কাঠামো, স্থায়ী সামরিক ব্যবস্থা বা যৌথ সামরিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, জোটটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে একটি সুস্পষ্ট কমান্ড ও সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলা, সদস্য দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোটকে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জোটটি ভবিষ্যতে নতুন সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে মিসর, সিরিয়া, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের নাম আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগোতে শুরু করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব। রিয়াদে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রম শুরুকে এ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার কাঠামোয় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সময়ের সঙ্গে একটি কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক জোটের নাম ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’

প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটের আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা হয়েছে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। সোমবার ইস্তাম্বুলে তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর জোটটির নাম ঘোষণা করা হয়।

বৈঠকের পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, জোটের স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আন্তর্জাতিক নীতির ভিত্তিতে জোটটি পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অন্যান্য দেশের জন্যও এই অংশীদারত্বে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর সামরিক কাঠামোয় রূপ দিতে গঠন করা হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটি। সোমবারের ইস্তাম্বুল বৈঠকে কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বৈঠকে সামরিক সক্ষমতার সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, অস্ত্র উৎপাদন ও গবেষণা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা কীভাবে কার্যকর হবে, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সামরিক প্রতিক্রিয়া কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতিকে অনেকেই ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই জোটের এখনও ন্যাটোর মতো সমন্বিত কমান্ড কাঠামো, স্থায়ী সামরিক ব্যবস্থা বা যৌথ সামরিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, জোটটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে একটি সুস্পষ্ট কমান্ড ও সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলা, সদস্য দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন পদ্ধতির ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোটকে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জোটটি ভবিষ্যতে নতুন সদস্য গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে মিসর, সিরিয়া, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের নাম আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দিকে এগোতে শুরু করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব। রিয়াদে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রম শুরুকে এ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার কাঠামোয় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সময়ের সঙ্গে একটি কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: আল-জাজিরা