দুই দিনেই ইনিংসে হার বাংলাদেশের, সমতায় সিরিজ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া
- প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
ডারউইনে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশের জন্য ম্যাকাই টেস্ট হয়ে থাকল দুঃস্বপ্নের। মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানে বাংলাদেশকে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং তোপে বাংলাদেশের ব্যাটিং পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
২১ বছর পর প্রথমবার কোনো দল একই টেস্টের দুই ইনিংসেই একশ রানের নিচে অলআউট হলো। সর্বশেষ ২০০৫ সালে হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে দুই ইনিংসে ৫৯ ও ৯৯ রানে অলআউট হয়েছিল।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার ম্যাচে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেরা বোলিংয়ের নজির গড়েন তিনি। তার বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া ২১০ রানে অলআউট হলেও স্বাগতিকরা ১৪৬ রানের লিড পায়।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ১০টি চার মেরে ৬৭ রান করেন গ্রিন। পরে নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউডের জুটি অস্ট্রেলিয়ার লিড আরও বাড়ায়। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে ফেরান তাইজুল ইসলাম। লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন।
১৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের তোপে তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে হারায় সফরকারীরা। সাদমান ১ রান করে ক্যাচ দেন, পরের বলেই মুমিনুলের অফস্টাম্প উড়িয়ে দেন স্টার্ক।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিম ৯ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন। প্রথম সেশনের শেষে ৩ উইকেটে ৩৯ রান করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় সেশনে ধস আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। মাত্র ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম একে একে সাজঘরে ফেরেন।
মিচেল স্টার্কের বলে আউট হয়ে টানা তৃতীয় ইনিংসে ডাক মারেন লিটন দাস। প্যাট কামিন্সও পরপর দুই ওভারে দুটি উইকেট তুলে নেন। মিরাজ করেন ১ রান, হাসান মাহমুদ ২ রান এবং তাইজুল ইসলাম ৭ রান করে আউট হন।
শেষ পর্যন্ত মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত থেকে চা-বিরতিতে যান। বিরতির পর মাত্র তিন বল টিকে বাংলাদেশ। নাথান লায়নের প্রথম বলেই তাসকিন ক্যাচ দেন। এরপর শরিফুল ইসলামকে শূন্য রানে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন লায়ন।
মাত্র ৭৫০ বলে শেষ হয়েছে ম্যাচটি, যা ১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবচেয়ে কম বলের টেস্ট। সর্বকালের সংক্ষিপ্ততম টেস্টের তালিকায় ম্যাচটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
দুই ম্যাচে মাত্র ২০ রান দিয়ে ১২ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন মিচেল স্টার্ক। দ্বিতীয় টেস্টে ১২ রান ও ৩৯ রান করে ৬ ও ৪ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়ের পর সিরিজ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশের।




















