Dhaka ০৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের না ধরলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানার পর গাড়িচালককে প্রলোভন দেখান গাজী নজরুল ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে বাধা যত গভীরই হোক, তা দূর করা হবে: অর্থমন্ত্রী কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: একসঙ্গে দেশে ফিরল ৫ বাংলাদেশির মরদেহ সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে শিল্প খাতের সংকট কাটবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ভারতকে সীমান্তহত্যা ও পুশইন বন্ধ করতে হবে: রাশেদ খাঁন কাজের পরিধি ও গতি বাড়ায় পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী: শামা ওবায়েদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু ইসির তাড়াহুড়া নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর কালুখালীর সূর্য দিয়া গ্রামে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই নিকজান বেগমের

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের না ধরলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 13

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এক্ষেত্রে ব্যর্থতায় ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুসরণপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী আজ রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি শান্তিনগরের পপুলার হাসপাতালের সামনে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন,‘সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায়—যারা এরকম চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে (আমি টাইম লিমিট দিচ্ছি না) অতিশীঘ্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে না নিতে পারে, আইনের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র ও তাদের তৎপরতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে তাঁর চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং গুরুতর আহত করে। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত সংঘবদ্ধ চক্রের সাতজন সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থল থেকে, একজন লক্ষ্মীপুর থেকে, একজন যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অপরজন সাঁতারকুল এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আসে। মন্ত্রী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র প্রশংসা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকাকালীন হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলে। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা প্রেরণ এবং পরবর্তীতে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন,‘আমরা কেবল চাঁদাবাজ বা অপরাধীদের তালিকাই তৈরি করছি না; এসব চাঁদাবাজির সাথে যদি পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকে বা সহায়তা করে, তবে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, অপরাধী বা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। মন্ত্রী কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার ও ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শর্ট গান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

মন্ত্রী পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের না ধরলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সারাদেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এক্ষেত্রে ব্যর্থতায় ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুসরণপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী আজ রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি শান্তিনগরের পপুলার হাসপাতালের সামনে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় আহত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন,‘সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ অন্যান্য মেট্রো এলাকায়—যারা এরকম চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, তাদেরকে (আমি টাইম লিমিট দিচ্ছি না) অতিশীঘ্র যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতে না নিতে পারে, আইনের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে যারা যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র ও তাদের তৎপরতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে তাঁর চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং গুরুতর আহত করে। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত সংঘবদ্ধ চক্রের সাতজন সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থল থেকে, একজন লক্ষ্মীপুর থেকে, একজন যাত্রাবাড়ীর দনিয়া থেকে এবং অপরজন সাঁতারকুল এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আসে। মন্ত্রী দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র প্রশংসা করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকাকালীন হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলে। বড় বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বার্তা প্রেরণ এবং পরবর্তীতে শারীরিক হামলা চালিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না এবং চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন,‘আমরা কেবল চাঁদাবাজ বা অপরাধীদের তালিকাই তৈরি করছি না; এসব চাঁদাবাজির সাথে যদি পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকে বা সহায়তা করে, তবে তাদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, অপরাধী বা তাদের মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডাক্তার ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। মন্ত্রী কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার ও ক্লিনিকে বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন। এসময় এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের যেকোনো নাগরিক বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শর্ট গান বা পিস্তলের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো চিকিৎসক যদি নিজের নিরাপত্তায় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োজন মনে করে আবেদন করেন, তবে সরকারের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

মন্ত্রী পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।