Dhaka ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আক্রমণকারীদের হাত থেকে মসজিদ বাঁচানো যুবককে সম্মানিত করল সৌদি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 82

এই গল্পটি শুধু সাহসিকতার নয়, এটি অসম্ভবকে জয় করার এবং বিশ্বাসের এক জাদুকরী উপাখ্যান। এক পায়ে ভর দিয়ে, হাতে ক্রাঞ্চ আর লাঠি নিয়ে যিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন দুর্বৃত্তের দলের বিরুদ্ধে, সেই বীরের নাম শেখ রহিমুল্লাহ। নেপালের রৌহতহাট জেলার রামপুরের এই ৩২ বছর বয়সী মানুষটি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে, তাঁর জীবনের এই মুহূর্তটি একদিন তাকে নিয়ে যাবে সোজা পবিত্র মক্কায়।

মাসকয়েক আগের কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এক প্রতিবন্ধী মুসলিম যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন একটি মসজিদ। এক পা নেই তো কি হয়েছে, মনোবল তো পাহাড়সম! ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় গোটা মুসলিম বিশ্বে। সৌদি আরবের সাধারণ কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে সেই দৃশ্য। তারা পণ করেন, এই বীরকে খুঁজে বের করতেই হবে। শুরু হয় ডিজিটাল দুনিয়ায় এক অভাবনীয় সন্ধান।

আর সেই খোঁজ শেষ পর্যন্ত সফল হয়! গত ৫ আগস্ট, ২০২৬। সৌদি দাতা এবং আয়োজকদের উদ্যোগে অবশেষ অলৌকিক এক স্বপ্ন বাস্তব হয়। বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে যখন সৌদি আরবের মাটিতে পা রাখেন শেখ রহিমুল্লাহ, তখন মক্কা ও মদিনার সাধারণ মানুষ ও বাসিন্দারা তাঁকে বরণ করে নেন উপচে পড়া ভালোবাসা আর উপহারের ডালি দিয়ে। ওমরাহ পালনের সেই পবিত্র মুহূর্তগুলোর কথা মনে করে আজও চোখের কোণে জল জমে যায় এই বীরের।

তবে এখানেই শেষ নয়। কেরালার তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোহাম্মদ রফির ভাষ্যমতে, সৌদি যুবকদের এই উদ্যোগ কেবল ওমরাহতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বদর অ্যাসোসিয়েশন স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছে রহিমুল্লাহর পাশে। হারিয়ে যাওয়া একটি পায়ের বদলে খুব শীঘ্রই তাকে দেওয়া হবে একটি আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রোস্টেটিক লিম্ব। যা বদলে দিতে পারে তাঁর বাকি জীবনটার গতিপথ।

​ গত ১৪ আগস্ট, বুকভরা কৃতজ্ঞতা আর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কিছু স্মৃতি নিয়ে নেপালে ফিরে গেছেন রহিমুল্লাহ ও তাঁর পরিবার।

সূত্র: আরব নিউজ

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আক্রমণকারীদের হাত থেকে মসজিদ বাঁচানো যুবককে সম্মানিত করল সৌদি

প্রকাশের সময় : ১১:১৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

এই গল্পটি শুধু সাহসিকতার নয়, এটি অসম্ভবকে জয় করার এবং বিশ্বাসের এক জাদুকরী উপাখ্যান। এক পায়ে ভর দিয়ে, হাতে ক্রাঞ্চ আর লাঠি নিয়ে যিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন দুর্বৃত্তের দলের বিরুদ্ধে, সেই বীরের নাম শেখ রহিমুল্লাহ। নেপালের রৌহতহাট জেলার রামপুরের এই ৩২ বছর বয়সী মানুষটি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে, তাঁর জীবনের এই মুহূর্তটি একদিন তাকে নিয়ে যাবে সোজা পবিত্র মক্কায়।

মাসকয়েক আগের কথা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এক প্রতিবন্ধী মুসলিম যুবক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন একটি মসজিদ। এক পা নেই তো কি হয়েছে, মনোবল তো পাহাড়সম! ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় গোটা মুসলিম বিশ্বে। সৌদি আরবের সাধারণ কর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে সেই দৃশ্য। তারা পণ করেন, এই বীরকে খুঁজে বের করতেই হবে। শুরু হয় ডিজিটাল দুনিয়ায় এক অভাবনীয় সন্ধান।

আর সেই খোঁজ শেষ পর্যন্ত সফল হয়! গত ৫ আগস্ট, ২০২৬। সৌদি দাতা এবং আয়োজকদের উদ্যোগে অবশেষ অলৌকিক এক স্বপ্ন বাস্তব হয়। বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে যখন সৌদি আরবের মাটিতে পা রাখেন শেখ রহিমুল্লাহ, তখন মক্কা ও মদিনার সাধারণ মানুষ ও বাসিন্দারা তাঁকে বরণ করে নেন উপচে পড়া ভালোবাসা আর উপহারের ডালি দিয়ে। ওমরাহ পালনের সেই পবিত্র মুহূর্তগুলোর কথা মনে করে আজও চোখের কোণে জল জমে যায় এই বীরের।

তবে এখানেই শেষ নয়। কেরালার তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোহাম্মদ রফির ভাষ্যমতে, সৌদি যুবকদের এই উদ্যোগ কেবল ওমরাহতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বদর অ্যাসোসিয়েশন স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছে রহিমুল্লাহর পাশে। হারিয়ে যাওয়া একটি পায়ের বদলে খুব শীঘ্রই তাকে দেওয়া হবে একটি আধুনিক কৃত্রিম অঙ্গ বা প্রোস্টেটিক লিম্ব। যা বদলে দিতে পারে তাঁর বাকি জীবনটার গতিপথ।

​ গত ১৪ আগস্ট, বুকভরা কৃতজ্ঞতা আর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর কিছু স্মৃতি নিয়ে নেপালে ফিরে গেছেন রহিমুল্লাহ ও তাঁর পরিবার।

সূত্র: আরব নিউজ