Dhaka ০৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সহপাঠীর ওপর হামলার বিচার চেয়ে জবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনের বাধা সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার সহপাঠীর ওপর হামলার বিচার চেয়ে জবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনের বাধা আলমারিতে রাখা ২ লাখ টাকা ইঁদুর-উইপোকার পেটে, নিঃস্ব কৃষক কোনো প্ররোচনায় বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না : প্রধানমন্ত্রী কাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী, সমুদ্রপাড়ে জনতার ঢল মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বন্যায় স্থগিত আলিম পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ দুই দিন রোম বিমানবন্দরে আটকে থাকার পর ঢাকায় ফিরলেন বিমানের যাত্রীরা

‘মক্কা চুক্তি’ ইরানের বিরুদ্ধে নয়, জানাল তুরস্ক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করিনি। যে দেশগুলো স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।’

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তিটিকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কৌশলগতভাবে তুলনা করেছেন। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফিদান বলেন, কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। আক্রান্ত দেশকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করতে হবে এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্দিষ্ট করতে হবে। সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে গোলাবারুদ কিংবা সামরিক ইউনিট মোতায়েনও থাকতে পারে।

চুক্তির আওতায় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হবে।

ফিদান জানান, তিন দেশ যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন এবং সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতাও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে বলে জানান তিনি। মক্কায় তিন নেতার বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশগুলো একে অপরের সামরিক প্রযুক্তি থেকে কীভাবে সুবিধা নিতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চুক্তিটির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলেছে। ফলে এটি কেবল ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তৈরি হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তবে আঙ্কারার এমন বক্তব্যের পরও ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সৌদি আরবকে নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। একই কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাই চুক্তিটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সরাসরি ‘মক্কা চুক্তি’র কথা উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর জোর দেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘মক্কা চুক্তি’ ইরানের বিরুদ্ধে নয়, জানাল তুরস্ক

প্রকাশের সময় : ১২:৪২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে হাকান ফিদান বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করিনি। যে দেশগুলো স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।’

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চুক্তিটিকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কৌশলগতভাবে তুলনা করেছেন। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফিদান বলেন, কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। আক্রান্ত দেশকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করতে হবে এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্দিষ্ট করতে হবে। সহায়তার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে গোলাবারুদ কিংবা সামরিক ইউনিট মোতায়েনও থাকতে পারে।

চুক্তির আওতায় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের সমন্বয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপন করা হবে।

ফিদান জানান, তিন দেশ যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন এবং সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতাও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে বলে জানান তিনি। মক্কায় তিন নেতার বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশগুলো একে অপরের সামরিক প্রযুক্তি থেকে কীভাবে সুবিধা নিতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চুক্তিটির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলেছে। ফলে এটি কেবল ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তৈরি হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তবে আঙ্কারার এমন বক্তব্যের পরও ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সৌদি আরবকে নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। একই কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাই চুক্তিটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সরাসরি ‘মক্কা চুক্তি’র কথা উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর জোর দেন।