কালুখালীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- প্রকাশের সময় : ০৪:২২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 0
‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর কালুখালীতে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রসূতি মা ও স্থানীয় সুধীজন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাইনি কনসালট্যান্ট ডা. নাহিদা ইয়াসমিন, সিনিয়র স্টাফ নার্স শামছুন্নাহার, সিনিয়র স্টাফ নার্স আছিয়া খাতুনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মন বলেন, জন্মের পর মায়ের প্রথম দুধ বা শালদুধ শিশুর প্রথম প্রাকৃতিক টিকা হিসেবে কাজ করে। এটি নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ডায়রিয়া ও স্থূলতার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, নিয়মিত শিশুকে বুকের দুধ পান করালে মায়েদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এছাড়া গুঁড়ো দুধ বা ফর্মুলা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাতৃদুগ্ধ পানই সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপায়।
তিনি মাতৃদুগ্ধ সম্পর্কে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে বলেন, জন্মের পর শালদুধই নবজাতকের জন্য সবচেয়ে উপকারী এবং অল্প পরিমাণ শালদুধই নবজাতকের প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম। মাতৃদুগ্ধ পান করানোর মাধ্যমে মা ও শিশুর মধ্যে ভালোবাসা ও মানসিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। একই সঙ্গে এটি শিশুর হজমশক্তি উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মায়ের দুধে থাকা উপকারী উপাদান শিশুকে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া জন্মের পর প্রথম কয়েক দিনে শিশুকে বারবার বুকের দুধ পান করালে মায়ের দুধ দ্রুত উৎপাদিত হয়।
আলোচনা সভায় মাতৃদুগ্ধ পান সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।





















