পাচারের সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ
- প্রকাশের সময় : ১০:১১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
অর্থ পাচার মামলায় অবরুদ্ধ, সংযুক্ত ও সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব সম্পদ রাষ্ট্রীয় কাজে কার্যকরভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি পাচারকৃত অর্থ-সম্পদ উদ্ধারে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির প্রথম সভা রবিবার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ কমিটি গঠন করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব ও সিআইআইডির মহাপরিচালক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। সভায় ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব এমডি আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক সেলিনা সুলতানা, সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বাশির উদ্দিন এবং পুলিশ সুপার এমডি নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কমিটির গবেষণা সহযোগী হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকী।
সভায় অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও পাচারকৃত অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধারে বিদ্যমান আইন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে অর্থ পাচারের মামলায় অবরুদ্ধ ও সংযুক্ত সম্পদ এবং সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে কীভাবে কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব নেওয়া হয়।
ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও অর্থপাচার প্রতিরোধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। আইনটি আরও কার্যকর করতে সংশোধনী আনার বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সম্পদ শনাক্তকরণ, জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে কার্যকরভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের কথা বলা হয়।
সভায় অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে কো-অপ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির কারিগরি ও বিশেষায়িত দিক নিয়ে এসব বিশেষজ্ঞ কমিটিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থ পাচারের মামলায় সম্পদ অবরুদ্ধ বা সংযুক্ত হওয়ার পর সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং আদালতের মাধ্যমে সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের কার্যকর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থা, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সভায় পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় আরও জোরদার এবং রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।



















