Dhaka ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাককানইবিতে ডিবি-পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদ, আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • / 81

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে চক্রটি। পরপর দুই দিনে একই কৌশলে প্রতারণার দুটি ঘটনা সামনে আসায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একটি মিডটার্ম পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে এক শিক্ষার্থী তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। এই সুযোগটিকে কাজে লাগায় প্রতারক চক্রটি। তারা ওই শিক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দাবি করে, তাঁর ছেলেকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। সামাজিক ও আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বিকাশের মাধ্যমে ওই অভিভাবকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকেরা।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তরিকুল ইসলাম জনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। তবে প্রক্টরিয়াল বডির সতর্কবার্তার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ৩০ জুলাই আবারও একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা চালায় চক্রটি।

এবার এক নারী শিক্ষার্থীর মাকে ফোন করে নিজেদের ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। ফোনে দাবি করা হয়, তাঁর মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। পরিবেশ বিশ্বাসযোগ্য করতে ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং সামাজিক সম্মানহানির হুমকি দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তবে আগের দিনের ঘটনার কথা জানা থাকায় ওই অভিভাবক তাৎক্ষণিকভাবে টাকা না পাঠিয়ে সতর্ক হন। তিনি পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পান।

পরপর দুটি ঘটনার পর প্রতারকেরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য, পরিবারের ফোন নম্বর কিংবা পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে জানতে পারছে—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য ফাঁস হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত তথ্য ফাঁসের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, “অপরিচিত নম্বর থেকে এ ধরনের ফোন এলে কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। যেকোনো আর্থিক লেনদেনের আগে অবশ্যই শিক্ষার্থী, তাঁর সহপাঠী, বিভাগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, প্রতারক চক্রটিকে চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। যেকোনো সন্দেহজনক ফোনকল পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জাককানইবিতে ডিবি-পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদ, আতঙ্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে চক্রটি। পরপর দুই দিনে একই কৌশলে প্রতারণার দুটি ঘটনা সামনে আসায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একটি মিডটার্ম পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে এক শিক্ষার্থী তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। এই সুযোগটিকে কাজে লাগায় প্রতারক চক্রটি। তারা ওই শিক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে দাবি করে, তাঁর ছেলেকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে। সামাজিক ও আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বিকাশের মাধ্যমে ওই অভিভাবকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকেরা।

ঘটনাটি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তরিকুল ইসলাম জনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। তবে প্রক্টরিয়াল বডির সতর্কবার্তার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই ৩০ জুলাই আবারও একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা চালায় চক্রটি।

এবার এক নারী শিক্ষার্থীর মাকে ফোন করে নিজেদের ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। ফোনে দাবি করা হয়, তাঁর মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে। পরিবেশ বিশ্বাসযোগ্য করতে ফোনের অপর প্রান্তে এক নারীর কান্নার শব্দ শোনানো হয় এবং সামাজিক সম্মানহানির হুমকি দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তবে আগের দিনের ঘটনার কথা জানা থাকায় ওই অভিভাবক তাৎক্ষণিকভাবে টাকা না পাঠিয়ে সতর্ক হন। তিনি পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পান।

পরপর দুটি ঘটনার পর প্রতারকেরা কীভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য, পরিবারের ফোন নম্বর কিংবা পরীক্ষার সময়সূচি সম্পর্কে জানতে পারছে—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য ফাঁস হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত তথ্য ফাঁসের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর তরিকুল ইসলাম জনি বলেন, “অপরিচিত নম্বর থেকে এ ধরনের ফোন এলে কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। যেকোনো আর্থিক লেনদেনের আগে অবশ্যই শিক্ষার্থী, তাঁর সহপাঠী, বিভাগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।”

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, প্রতারক চক্রটিকে চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। যেকোনো সন্দেহজনক ফোনকল পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে।