২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত
- প্রকাশের সময় : ০৪:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 9
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু ঝুঁকি ও জটিল বৈশ্বিক পরিবেশ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব বাস্তবতায় ইইউ বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে দেখছে। প্রচলিত দাতা ও সাহায্যগ্রহীতার সম্পর্কের বাইরে গিয়ে আরও উচ্চাভিলাষী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও ইইউ পরীক্ষা করে দেখতে চায় বলে জানান তিনি। তবে এ ধরনের চুক্তির জন্য দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক ও উভয়ের জন্য লাভজনক সমঝোতার ভিত্তি থাকা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
মাইকেল মিলার বলেন, সম্ভাব্য এফটিএর সফলতা নির্ভর করবে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রমিক ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসনের ওপর। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও নির্ভরযোগ্য অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ শাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় মূল্যবোধের সঙ্গে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশে প্রযুক্তি, মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও গ্রিন বন্ড ইস্যুর মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান মাইকেল মিলার। তাঁর মতে, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে এগিয়ে যেতে আধুনিকায়ন, উন্মুক্ততা, সহনশীলতা ও সংযুক্ততার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।



















