কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর
- প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 15
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে কবির শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে মারধর করা হয়েছে। এতে আহত কবিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রোববার উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার কবির শেখ বিরামের কান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কবির ওই শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়েও প্রতিকার না পেয়ে ওই শিক্ষিকা উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কবির ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন। এ সময় তাঁর আত্মীয়স্বজন এগিয়ে এসে কবিরকে মারধর করে ফেলে রেখে যান। পরে কবিরের পরিবারের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
কবির শেখের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে। তিনি আগে অটো চালাতেন। অটোতে যাতায়াতের সময় ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর থেকে তিনি ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলামি শুরু করেন। তবে তাঁকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।’
ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘কবির প্রায়ই স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আমাকে উত্ত্যক্ত করতেন এবং পথরোধ করতেন। মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার সময় পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতেন। বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাঁর উত্ত্যক্তের কারণে অনেক সময় ভয় পেয়ে ছুটি নিতাম। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও প্রতিকার পাইনি।’
তবে কে বা কারা কবিরকে মারধর করেছেন, তা তিনি জানেন না বলে জানান ওই শিক্ষিকা।
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জণ ভক্ত বলেন, ‘ওই শিক্ষিকা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এরপর ইউএনও স্যারকে নিয়ে কবির ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে ডেকে আনা হয়েছিল। তাঁরা ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবেন না বলে কথা দিয়েছিলেন।’
কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুকুমার কুন্ড বলেন, এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















